Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ঢাকাকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের দাবি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০২

ঢাকাকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের দাবি

ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঢাকাকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা সম্ভব। তবে এ জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজধানীর কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এভিয়েশন কনক্লেভে দেশের এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনায় উদ্যোক্তারা এ আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন। 

‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক এই নীতি কনক্লেভে অংশ নেন নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক ও উদ্যোক্তারা। প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন।

টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কেএম মুজিবুল হক বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বছরে ২০-২৪ মিলিয়ন যাত্রী ও পাঁচ লাখ টন কার্গো পরিবহন সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশের এভিয়েশন বাজারের আকার ৫-৬ বিলিয়ন ডলার। এর মাত্র ২২ শতাংশ দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে। প্রতি বছর প্রায় ১.১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে বাজারের আকার ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

প্রতি বছর প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী বাংলাদেশের আকাশসীমার আশপাশ দিয়ে চলাচল করেন। অথচ ট্রানজিট যাত্রীর হার ৫ শতাংশেরও কম। নতুন টার্মিনালে বছরে ৫০ লাখ ট্রানজিট যাত্রীসেবার সক্ষমতা থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশের ৮৩০টি ফ্লাইট রাইটস থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৩২৯টি। অব্যবহৃত রাইটস কাজে লাগাতে হবে। দিনে ৫০০-৬০০ ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটিমাত্র রানওয়ের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ও সময় নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, কর, ভ্যাট, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও লাইসেন্স জটিলতা দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন, শুধু টার্মিনাল নির্মাণ যথেষ্ট নয়। ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শপিং, খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। শক্তিশালী দেশীয় এয়ারলাইনস, আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক হাবে রূপান্তর করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, এভিয়েশন খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে হবে। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে হবে। কার্গো হ্যান্ডলিং ও বিমানবন্দর পরিচালনায় দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাদার নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

উদ্যোক্তারা মনে করেন, ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা সম্ভব। তবে এ জন্য সমান সুযোগ, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। সঠিক পদক্ষেপ নিলে এ খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারবে।

Logo