Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের খবর নাই, নিয়োগের বিজ্ঞাপন!

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের খবর নাই, নিয়োগের বিজ্ঞাপন!

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খোলেনি। কবে থেকে কর্মী পাঠানো শুরু হবে, তা নিয়েও কোনো ঘোষণা নেই। কিন্তু এর আগেই কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি চাকরির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। সাক্ষাৎকার নিচ্ছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। ফলে হাজারো মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে ট্রিপল এ ওভারসিজ নামে একটি এজেন্সির সামনে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। তাদের বলা হয়েছিল, মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ আসে। পরে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালায়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক এসকে মনির দাবি করেন, মালয়েশিয়া থেকে চাহিদাপত্র পেয়েছেন। কিন্তু তা দেখাতে পারেননি। আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে অফিস সিলগালা করে দেয়।

২০২৪ সালের মে মাস থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। গত আগস্টে দেশটির সরকার অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে। পরে আরো ৩১৩টি এজেন্সি যুক্ত হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলসহ সাব-এজেন্ট হিসেবে ৬২টি প্রতিষ্ঠান রাখা হয়। ট্রিপল এ ওভারসিজও এর মধ্যে ছিল। তবে শ্রমবাজার খোলার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

২০১৬ সালে ১০ এজেন্সি এবং ২০২২ সালে ২৫ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা সিন্ডিকেট নামে পরিচিত হয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সোয়া পাঁচ লাখ কর্মী ছাড়পত্র নেন। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার যেতে পেরেছিলেন। কিন্তু ১৭ হাজার কর্মী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও যেতে পারেননি। তখন নির্ধারিত ব্যয় ছিল ৭৯ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে গড়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

জনশক্তি ব্যবসায়ীদের মতে, এবার খরচ আরো বাড়তে পারে। ছয় থেকে সাত লাখ টাকা লাগতে পারে। সমকাল একটি অডিও পেয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে প্রতিটি কর্মীর জন্য ১২ হাজার রিঙ্গিত দিতে হবে। এর সঙ্গে যোগ হবে বিমান ভাড়া, এজেন্সির মুনাফা ও সরকারি ফি। ফলে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বেশি।

ট্রিপল এ ওভারসিজে আসা কয়েকজন কর্মী জানিয়েছেন, তাদের বলা হয়েছিল পাঁচ লাখ টাকা লাগবে। গ্রামের প্রতিনিধি তাদের ঢাকায় এসে সাক্ষাৎকার দিতে বলেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, বিদেশ যেতে সমস্যা হতে পারে।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই অসাধু এজেন্সিকে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিতে দেওয়া হবে না। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

Logo