Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ভারতে শুরু ব্রিকস সম্মেলন, আলোচনায় বাংলাদেশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯

ভারতে শুরু ব্রিকস সম্মেলন, আলোচনায় বাংলাদেশ

ভারতে শুরু হয়েছে ব্রিকস সম্মেলন। ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলো একত্রিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) সদস্য হিসেবে এ সম্মেলন থেকে অর্থনৈতিক সুযোগ পেতে পারে। ভারতের উর্দুভাষী সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিলাপের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ভারতের নেতৃত্বে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংক খাতের চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় পড়েছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে। আইএমএফ ধারণা দিয়েছে, ২০২৬ সালে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৯.২ শতাংশে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি বড় অর্জন হলেও রপ্তানিতে আগের মতো বাণিজ্য সুবিধা আর থাকবে না।

ভারত এবারের ব্রিকস সম্মেলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বড় উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাজার, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক, পরিবহন করিডর ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। এনডিবি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। ভবিষ্যতে সেতু, রেল আধুনিকায়ন, নগর পরিবহন ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে অর্থায়নের আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে। সম্প্রতি ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে নেপালের জলবিদ্যুৎ বাংলাদেশে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এটি তিন দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা। ফলে বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে, নেপাল রপ্তানি আয় করছে এবং ভারত আঞ্চলিক গ্রিডকে শক্তিশালী করছে।

ভারত ও বাংলাদেশ রেলপথ, সড়ক ও নদীপথে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বাংলাদেশে লজিস্টিকস, বন্দরসেবা, উৎপাদন ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভারত বাংলাদেশকে শুধু ট্রানজিট নয়, বরং বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে দেখছে।

এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশকে তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন খাতে যেতে হবে। উচ্চমূল্যের টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ ও ডিজিটাল সেবায় প্রবৃদ্ধি আনতে হবে। ভারতীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক এ ক্ষেত্রে বড় প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। ভারত ইতিমধ্যেই ট্রেড ফাইন্যান্স, স্টার্টআপ সহযোগিতা, সাপ্লাই চেইন ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোগে সহায়তা দিচ্ছে।

ভারতের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, পূর্বাভাস নেটওয়ার্ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজনকে শক্তিশালী করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা, উপকূল সুরক্ষা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও জরুরি যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ছে। এনডিবি টেকসই অবকাঠামোতে অর্থায়ন করছে, যা জীবন রক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

Logo