Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাড়ছে বিদেশ যেতে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টের ব্যবহার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২

বাড়ছে বিদেশ যেতে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টের ব্যবহার

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের অনেকেই ভিসা আবেদনের সময় ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট ব্যবহার করছেন। ব্যাংকে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকার আমানত দেখানোর জন্য কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিচ্ছেন। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং পাসপোর্টের মানও অবনমিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা কনসালট্যান্সি ফার্মের মাধ্যমে ব্যাংকে সামান্য টাকা জমা দিয়ে বিপুল অঙ্কের সলভেন্সি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ আবার ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের মাধ্যমে এসব নথি পাচ্ছেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা অভিনব কৌশলে ঋণ সৃষ্টি করে সেটিকে আমানত দেখিয়ে সলভেন্সি সার্টিফিকেট ইস্যু করছেন। এতে শিক্ষার্থীরা বৈধভাবে অর্থ জমা না রেখেও বিপুল অঙ্কের ব্যাংক স্টেটমেন্ট পাচ্ছেন।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যাংকের স্টেটমেন্ট প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, প্রতারণামূলক সার্টিফিকেট ইস্যু করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, “ব্যাংক একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হলেও কোনো ব্যবসাই যেন অনৈতিক না হয়, সেটি খেয়াল রাখতে হবে।”

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা বৈধভাবে অর্থ দেখাতে না পারায় অনৈতিক উপায় অবলম্বনে বাধ্য হচ্ছেন। ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জুলফিকার আলী জুয়েল বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বৈধভাবে ঋণ বা সলভেন্সি দেখানোর সরকারি ব্যবস্থা আছে, কিন্তু বাংলাদেশে নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতারণার পথে হাঁটছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা ব্যয় করেছেন প্রায় ৮৯ কোটি ডলার, যা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বরাদ্দের সমান। ইউনেস্কোর পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য বিদেশে গেছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেছেন, প্রকৃত আমানত ছাড়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইস্যু করা গুরুতর অনিয়ম। শুধু কিউআর কোড নয়, কার্যকর ভেরিফিকেশন আর্কিটেকচার ও কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাইযোগ্য ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ড প্রয়োজন।

Logo