Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদেশে উচ্চশিক্ষা; যেভাবে নিতে হবে প্রস্তুতি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪

বিদেশে উচ্চশিক্ষা; যেভাবে নিতে হবে প্রস্তুতি

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে গেছেন।

বিদেশে পড়তে গেলে ভালো একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ বলেন, আইইএলটিএস ও টোয়েফল সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সের জন্য আইইএলটিএস, টোয়েফল ছাড়াও এসএটি, জিআরই ও জিম্যাট পরীক্ষায় সফল হতে হয়।

আইইএলটিএস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পরীক্ষা, যা বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে দেওয়া যায়। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইএলটিএস স্কোরকে নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করে। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে টোয়েফল স্কোরকে বেশি গুরুত্ব দেয়। উভয় পরীক্ষায় রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং ও স্পিকিং অংশে দক্ষতা যাচাই করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে পড়তে চাইলে জিআরই পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হয়। এ পরীক্ষায় অ্যানালিটিকাল রাইটিং, ভারবাল রিজনিং ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং অংশে দক্ষতা যাচাই করা হয়। অন্যদিকে ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোর্সে ভর্তির জন্য জিম্যাট স্কোর দরকার হয়। ৮০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় বিশ্লেষণ, গাণিতিক দক্ষতা ও যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার জন্য এসএটি স্কোর জমা দিতে হয়। এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ার জন্য কতটা প্রস্তুত তা যাচাই করা হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমে। বাংলাদেশে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এসএটি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জার্মানিতে পড়তে চাইলে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সের জন্য আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর জমা দিতে হয়। তবে জার্মান ভাষায় পরিচালিত কোর্সে ভর্তি হতে হলে টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। টেস্টড্যাফ বাংলাদেশে অনুমোদিত কেন্দ্রে দেওয়া যায়, আর ডিএসএইচ পরীক্ষা জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়।

জাপানে পড়তে গেলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর চায়। তবে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার জন্য জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। এজন্য জাপান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিশিয়েন্সি টেস্ট (জেএলপিটি) দিতে হয়। প্রতি বছর দুইবার এই পরীক্ষা হয় এবং বাংলাদেশ থেকেও অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে অংশ নেওয়া যায়।

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রস্তুতি ও ভালো স্কোর থাকলে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথে এসব পরীক্ষার প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

Logo