Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালু হবে থার্ড টার্মিনাল

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮

১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালু হবে থার্ড টার্মিনাল

আগামী ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালু হবে বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

৮ সেপ্টেম্বর সকালে টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, “যেভাবেই হোক আমরা ১৬ ডিসেম্বর এটা ওপেন করে দিতে চাই।” তিনি জানান, টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিদিন বিভিন্ন মেশিন ও সিস্টেমের টেস্ট-ট্রায়াল চলছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ। ইন্টারনেট, মেশিন এবং সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুরুতে এক বা দুইটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে বিমানবন্দরের সক্ষমতা আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বাড়বে। সর্বোচ্চ ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করা সম্ভব হবে। পর্যাপ্ত জায়গা ও আধুনিক অবকাঠামো ব্যবহার করে এই সক্ষমতা অর্জন করা যাবে।

টার্মিনাল পরিচালনা থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব অংশও বাড়ানো হয়েছে। জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পর রাজস্ব অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধও শুরু হয়েছে, এখনো প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ বাকি রয়েছে।

যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে লাগেজ সরবরাহের সময় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিমান থেকে নামার পর ১৫ মিনিটের মধ্যে যাত্রীর হাতে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহে ব্যর্থ হলে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর ফলে আগামী বছর থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে। তিনি বলেন, “বিমানবন্দরে নেমেই যেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের সক্ষমতা ও বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পান, সেভাবেই টার্মিনালটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।”

বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে শুধু নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালু করা এবং সেবার মান নিশ্চিত করা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর আংশিক কার্যক্রম শুরুর পর ধাপে ধাপে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে টার্মিনালের দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে।

Logo