Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কলিং ভিসার নামে ফের শুরু ‘মানুষের বেচাকেনা’

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৬

কলিং ভিসার নামে ফের শুরু ‘মানুষের বেচাকেনা’

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর নতুন করে শ্রমবাজারের দুয়ার খুলেছে। দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, এবার কর্মী নিয়োগে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ‘কলিং ভিসা’, ‘কোটা’, ‘ভিসা রেডি’ বা ‘ডিমান্ড লেটার’-এর নামে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সম্ভাব্য কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ভিসাকে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি দালালরা ‘কলিং ভিসা’ নামে পরিচিত করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অমানবিক শব্দ— ‘কয়টা মাথা’, ‘কয়টা বডি’, ‘কয়টা পাসপোর্ট’। এতে কর্মীকে পণ্য হিসেবে গণনা করা হচ্ছে। শ্রম অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে কর্মীর অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মীকে বিনাখরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি কার্যকর হবে? অতীতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বিতর্কিত হয়েছিল। লাইসেন্স বাতিল, মামলা ও আন্দোলনের পরও দালালদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী এজেন্সির হয়ে দালালরাই কর্মী সংগ্রহ থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত কাজ করে। ফলে কর্মীরা এজেন্সির নাম না জানলেও দালালের নাম বলতে পারেন। গ্রামে অনেক যুবক শুরুতেই পাসপোর্ট দালালের হাতে তুলে দেন। টাকা-পয়সার দরদামও সেখানেই ঠিক হয়। ফলে বৈধ এজেন্সি সরাসরি কর্মী সংগ্রহে বাধার মুখে পড়ে।

ওকাপের গবেষণায় দেখা গেছে, কম শিক্ষিত ও প্রস্তুতিহীন কর্মীরাই দালালের মাধ্যমে বেশি অর্থ ব্যয় করেন এবং প্রতারণার শিকার হন। অন্যদিকে সচেতন ও দক্ষ কর্মীরা তুলনামূলক কম খরচে বৈধ প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। রামরুর পর্যবেক্ষণেও বলা হয়েছে, যারা অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কম জানেন, তারা দালালের ওপর বেশি নির্ভর করেন এবং সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

মালয়েশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাকে প্রথমে অনুমোদন নিতে হবে। এরপর কোটা নির্ধারণ ও বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন হবে। কর্মী বাছাই, মেডিকেল পরীক্ষা শেষে মালয়েশিয়ার দূতাবাস থেকে ভিসা ও বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করবেন। প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে নিয়োগকর্তা সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়ে কর্মী নির্বাচন করবেন। ফলে আগেই দালালকে টাকা দিয়ে ‘ভিসা নিশ্চিত’ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য কর্মীদের সতর্ক করেছে, চূড়ান্ত নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো আর্থিক লেনদেন, পাসপোর্ট হস্তান্তর বা অপ্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষায় না যেতে। কারণ নিয়োগকর্তা শেষ পর্যন্ত কর্মী নির্বাচন না করলে আগাম দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

Logo