কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১০
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৮ জন বাংলাদেশি ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের কাউন্সেলিং, জরুরি সহায়তা এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
গত জুন মাসে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। দেশটির সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা ছাড়া অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার পর নতুন করে এই ৩৮ জন দেশে ফিরেছেন। জানা গেছে, আরো প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ফেরত আসা কর্মীরা জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে তাদের আটকে রেখে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয়েছিল। নির্ধারিত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। দেশে ফেরার পথে মানব পাচারকারীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগ করে ফেরত না যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “সাইবার স্ক্যাম এখন মানব পাচারের অন্যতম ভয়াবহ রূপ। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে। দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে এখনো হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে কিংবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আরো ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়েছিল।
ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়।
ব্র্যাক সম্ভাব্য কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছে, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে চাকরির উদ্দেশ্যে না যেতে। কারণ এসব দেশে মানব পাচার ও প্রতারণার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
logo-1-1740906910.png)