বিদেশে নারী কর্মীদের সুরক্ষায় ১৩ দেশের ২২ ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০৯
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সংসদে জানিয়েছেন, নারী কর্মীদের সুরক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে ১৩টি দেশের ২২টি ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সৌদি আরবে দুটি সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ওমানেও একটি সেফ হোম রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো দেশে এ ধরনের আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশি নারী কর্মীরা প্রধানত সৌদি আরব, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। এছাড়া হংকংসহ কয়েকটি দেশে হাউসকিপিং ও কেয়ারগিভিং খাতেও তারা কর্মরত। অতীতে নিগ্রহের ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে তা অনেক কমে এসেছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
কোনো বাংলাদেশি নারী বা পুরুষ কর্মী বিদেশে নিয়োগকর্তার দ্বারা নিগ্রহের শিকার হলে এসব ল’ ফার্মের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের দুটি কল সেন্টারের মাধ্যমে কর্মীরা অভিযোগ জানাতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য খসড়া পাঠানো হয়েছে। এটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে কর্মীর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কাতারের শ্রমমন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। এ সময় পাঁচটি ট্রেডে পাঁচটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে সেখান থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। জর্ডানে বোয়েসেলের মাধ্যমে গত ছয় মাসে ৭ হাজার ৬৮৩ জন গার্মেন্টস কর্মী পাঠানো হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার সংকুচিত হলেও দুবাইয়ের একটি ট্যাক্সি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ৬০০ জন চালক নিয়েছে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতারণা বা জিম্মি করার সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বাংলাদেশ দূতাবাস সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দেশে ফেরার পর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর অভিবাসন ব্যয় কমানোকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। ২০১৩ সালে নির্ধারিত খসড়া ব্যয় কাঠামো বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় হালনাগাদ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চাইলে দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং তা যাচাই করে। বেতন, থাকার পরিবেশ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পর বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়। তবে বিশেষ বিবেচনায় এক থেকে পাঁচজন কর্মীর ভিসা অ্যাটেস্টেশন ছাড়াই অনুমোদনের সুযোগের কিছু অপব্যবহার হচ্ছে। এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)