বিশ্ব অভিবাসন প্রবাহের শীর্ষে বাংলাদেশিরা: আইওএমের প্রতিবেদন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল এখন বিশ্ব অভিবাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে। আর এর শীর্ষে অবস্থান বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত এশিয়া-প্যাসিফিক মিক্সড মাইগ্রেশন ফ্লোস: বার্ষিক আঞ্চলিক প্রতিবেদন ২০২৫ এ উঠে এসেছে অভিবাসন প্রবাহের এই জটিল বাস্তবতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখানে যেমন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, তেমনি আবার অনেকেই এ অঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছেন।
মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও জলবায়ু দুর্যোগের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে প্রবেশ করছেন। ২০২৫ সালে স্থলপথে মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৫ শতাংশ অভিবাসীর কাছে বৈধ নথি নেই।
নাফ নদ, বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর হয়ে রোহিঙ্গাদের বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৬ হাজার ৫০১ জন রোহিঙ্গা এই পথে যাত্রা করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম। তবে বাংলাদেশ থেকে যাত্রা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৩৮ জনে। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অনেকেই সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেছে নিয়েছেন। এ পথে প্রায় ৯০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন উপকূল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে ২০টি নৌকায় প্রায় ১৯৩ জন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। আগের বছরের তুলনায় এটি ২৬ শতাংশ কম হলেও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
২০২৫ সালে এশিয়া থেকে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে পৌঁছেছেন ৪৭ হাজার ২০৬ জন অভিবাসী, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। ইউরোপে মোট অনিয়মিত প্রবেশ কমলেও এশিয়া থেকে আগমন বেড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে, মোট আগমনের ৫২ শতাংশ। আফগানিস্তান থেকে এসেছে ৩২ শতাংশ, পাকিস্তান থেকে ১১ শতাংশ এবং ইরান থেকে ৬ শতাংশ।
ইতালির উদ্দেশ্যে লিবিয়া হয়ে সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুটে সবচেয়ে বেশি অভিবাসন হয়েছে। ২০২৫ সালে এই পথে ২৭ হাজার ১৩০ জন পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশিরা ছিলেন তিন-চতুর্থাংশ। লিবিয়ায় শ্রমবাজারে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ায় এই রুটে তাদের সংখ্যা বেশি।
গ্রিস হয়ে ইস্টার্ন মেডিটেরানিয়ান রুটে ১৯ হাজার ৯৪২ জন পৌঁছেছেন। এর মধ্যে আফগানরা ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই রুটে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও সামগ্রিকভাবে এশিয়া থেকে ইউরোপে প্রবেশে বাংলাদেশিরা শীর্ষে অবস্থান করছে।
আইওএমের প্রতিবেদন বলছে, অর্থনৈতিক সুযোগ, সংঘাত, নিপীড়ন ও পরিবেশগত পরিবর্তন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভিবাসন প্রবাহকে জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশি অভিবাসীরা ইউরোপগামী অনিয়মিত প্রবেশে শীর্ষে অবস্থান করছে, আর রোহিঙ্গারা সমুদ্রপথে প্রাণঘাতী ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি।
logo-1-1740906910.png)