চীন সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুযোগ আরো সম্প্রসারিত করেছে। ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশ এই সুবিধার আওতায় এসেছে। তবে বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীরা এখনো এই তালিকায় নেই। ফলে বাংলাদেশ থেকে চীন ভ্রমণে গেলে ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশি নাগরিকরা পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা বা পারিবারিক সফরের জন্য চীনের L (Tourist) ভিসা, M (Business) ভিসা, বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রতিটি ভিসার মেয়াদ ও শর্ত আলাদা।
চীনের ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
- কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদযুক্ত বৈধ পাসপোর্ট
- পূর্ণাঙ্গ ভিসা আবেদন ফর্ম (COVA)
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- রিটার্ন ফ্লাইট বুকিংয়ের প্রমাণ
- হোটেল বুকিং বা আমন্ত্রণপত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অর্থের প্রমাণপত্র
- চাকরির প্রমাণপত্র বা ব্যবসায়িক লাইসেন্স
বাংলাদেশ থেকে চীনের ভিসার জন্য আবেদন করতে হয় চীনা ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস সেন্টার (CVASC), ঢাকাতে। সাধারণত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৪ কার্যদিবস লাগে। দ্রুত সেবা নিলে ২-৩ দিনে ভিসা পাওয়া যায়।
ভিসার ফি ভিসার ধরন ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ পর্যটন ভিসার জন্য প্রায় ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। দ্রুত সেবা নিলে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয়।
বাংলাদেশি নাগরিকরা চীনের ২৪ ঘণ্টা বা ২৪০ ঘণ্টার ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট ছাড় সুবিধা পান না। এমনকি স্বল্প সময়ের স্টপওভারের ক্ষেত্রেও সাধারণত ট্রানজিট ভিসা প্রয়োজন হয়।
চীন ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত ভিসা-মুক্ত প্রবেশ নীতি চালু রেখেছে। এতে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ ৫০টিরও বেশি দেশের নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৩০ দিন ভিসা ছাড়াই চীনে থাকতে পারবেন। এছাড়া হাইনান প্রদেশে ৬১ দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার কার্যকর রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)