রাশিয়ায় মানব পাচারে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৫
রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের পাঠানোর ঘটনায় মানব পাচারে জড়িত কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মানব পাচারে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য দেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু দালাল ও লাইসেন্সধারী এজেন্সি পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, লজিস্টিক কর্মী ও ড্রোন কারখানার শ্রমিক হিসেবে তরুণদের রাশিয়ায় পাঠাচ্ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে।
মানব পাচারের অভিযোগে আরএস ইন্টারন্যাশনাল, জাবাল-ই-নূর এবং টিএস ওভারসিজ লিমিটেডসহ কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওয়ার্ক ভিসায় কর্মী পাঠিয়ে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অভিযোগে এই তিন এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে গড়ে ১০ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে যান। এত বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। তবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিএমইটির ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে রাশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দূতাবাসের সত্যায়ন, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অনুমতি, কর্মীর ভিসা ও প্রশিক্ষণ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। দালাল চক্র ও অসাধু এজেন্সিগুলোকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
logo-1-1740906910.png)