নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের জেলায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটকরা নিরাপদে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস।
বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর শোয়েব আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা মূলত কৈলাস ও মানস সরোবর যাওয়ার পথে ঘটেছে। সাধারণত বাংলাদেশি পর্যটকরা ওই পথে যান না। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হতাহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই। কাঠমান্ডু, পোখারা ও নাগরকোটের মতো প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
তিনি আরো জানান, দুর্যোগের কারণে গতকাল পোখারা থেকে কাঠমান্ডু আসার পথে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটক সাময়িকভাবে আটকা পড়েছিলেন। মহাসড়ক বন্ধ থাকায় তারা প্রায় ছয়-সাত ঘণ্টা আটকে ছিলেন। পরে সড়ক খুলে দেওয়া হলে আজ সকালে তারা নিরাপদে কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিশূলী নদীর উজানে। বিপুল পানি নেমে এসে প্রায় ৪০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে ওই এলাকার একটি মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কাঠমান্ডু-পোখারা মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। শোয়েব আব্দুল্লাহ জানান, নদীর পানি বেড়ে মহাসড়কের ক্ষতি হতে পারে আশঙ্কায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে সড়কটি আবারো উন্মুক্ত করা হয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশি পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কাঠমান্ডু, পোখারা ও নাগরকোটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় পূর্বনির্ধারিত ভ্রমণসূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, “বাংলাদেশিরা যেভাবে যাতায়াত করছেন, তা একদম স্বাভাবিক।”
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দূতাবাস কোনো ট্রাভেল অ্যালার্ট জারি করেনি। শোয়েব আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, কোনো দেশই এখনো ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেনি।
logo-1-1740906910.png)