নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১০
নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে সুসংহত করার লক্ষ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মতবিনিময় সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সভায় আলোচকরা বলেন, মাঠ পর্যায়ের বাস্তবচিত্রের ভিত্তিতে জাতীয় নীতিনির্ধারণ করতে হবে। অভিবাসন বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরো এগিয়ে নিতে হলে স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ থেকে পাওয়া শ্রমবাজারের চাহিদা, কর্মী নিয়োগের শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা জেলা প্রশাসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যেন স্থানীয় পর্যায়ে অভিবাসনপ্রবণ জনগোষ্ঠীকে বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করেন। একই সঙ্গে বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদা ও সুযোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেন।
সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL)-এর প্রতিনিধি, অভিবাসনপ্রবণ ১৪ জেলার জেলা প্রশাসকগণ, ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) মিশন প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় অভিবাসনপ্রবণ ১৪টি জেলা কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নোয়াখালী, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও সুনামগঞ্জ। এসব জেলার মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। তাই তাদের জন্য বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ ও নিরাপদ করা জরুরি।
সভায় আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অংশীজনদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা জাতীয় নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত হলে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরো সুসংহত হবে এবং প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
logo-1-1740906910.png)