Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাড়ছে অনলাইনে অর্থ প্রতারণা; সতর্ক থাকতে হবে প্রবাসীদেরও

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১

বাড়ছে অনলাইনে অর্থ প্রতারণা; সতর্ক থাকতে হবে প্রবাসীদেরও

অনলাইনে ঋণ ও বিনিয়োগের প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। কম সুদে ঋণ, দ্রুত লাভের আশ্বাস কিংবা সহজ বিনিয়োগের টোপে মানুষ হারাচ্ছেন কষ্টার্জিত অর্থ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রতারণার জাল।

প্রতারকরা এখন ফেসবুককে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। আর্থিক সংকটে থাকা ও সাইবার অপরাধ সম্পর্কে কম জানেন এমন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষই তাদের প্রধান টার্গেট। গৃহিণী তৌহিদা আক্তার ফেসবুকে ‘আশার আলো ফাউন্ডেশন’ নামে একটি পেজে কম সুদে ঋণের বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন। তাকে প্রথমে ৪৫০ টাকা আবেদন ফি এবং পরে ১ লাখ টাকা জামানত দিতে বলা হয়। টাকা পাঠানোর পর পেজটি বন্ধ হয়ে যায়। তৌহিদার মতো আরো অনেকেই এমন অনলাইন ঋণ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ফিনক্যাশ, মানি, পপক্যাশ, ক্যাশনাউ, দ্রুত লোন, ফাস্ট লোন, সাথী লোন ও কুইকলোন; এ ধরনের অ্যাপগুলো মানুষকে ঋণ দেওয়ার নামে ঠকাচ্ছে। এসব অ্যাপ ইনস্টল করার সময় ব্যবহারকারীর ফোনের ছবি, ভিডিও ও যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে। পরে অস্বাভাবিক সুদ দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব অ্যাপ বেআইনি।

ঋণের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া, বাজি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার প্রলোভনেও মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ‘ফ্যাসেট’ নামের ভার্চুয়াল সম্পদ প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

সম্প্রতি দেখা গেছে, প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করেও অনলাইন প্রতারণা বাড়ছে। বিদেশে থাকা প্রবাসীদের নামে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির টাকা, হজের টাকা বা সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক সময় তারা ওটিপি বা ব্যাংক তথ্য নিয়ে পুরো অ্যাকাউন্ট খালি করে দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায় তার নিজের। ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ঋণ অ্যাপগুলো মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে টার্গেট করে। সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সক্রিয় হতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসাইন খান জানান, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে বিএফআইইউ ও পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ কাজ করছে। গত মাসে জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট ২০ হাজারের বেশি মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব বন্ধ করা হয়েছে।

সরকার সম্প্রতি ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ পাস করেছে, যাতে অনলাইন ও ভার্চুয়াল জুয়াকে অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে ২ থেকে ৭ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার জিডি ও ২৫০টির বেশি মামলা তদন্তাধীন। তিনি বলেন, “মানুষকেও এখন সতর্ক থাকতে হবে। প্রতারকরা নতুন নতুন কৌশলে ফাঁদ পেতে বসে আছে।”

Logo