রেমিট্যান্স বাড়াবে বিনিয়োগ; বাড়াবে কর্মসংস্থান: আইওএম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে (এসএমই) রেমিট্যান্স বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
আইওএম বাংলাদেশের প্রধান ড. লরা টম-বন্ড বলেন, “প্রতিটি রেমিট্যান্স প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রম, স্থিতিশীলতা ও প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এর একটি অংশ এসএমই খাতে বিনিয়োগ করলে কর্মসংস্থান বাড়বে, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ তৈরি হবে।”
২২ আগষ্ট এফডিসিতে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ছায়া সংসদে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও আইওএম বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায়।
তিনি বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন শুধু অভিবাসী নয়, তাদের পরিবার, সমাজ এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আইওএম সরকারকে সহযোগিতা করছে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, “রেমিট্যান্স প্রেরণকারীরা বাংলাদেশের প্রকৃত নায়ক। তারা অর্থনীতির চালিকাশক্তি।” তিনি আরো বলেন, রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পুনরুজ্জীবিত করছে।
কিরণ দাবি করেন, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৫ শতাংশ অভিবাসনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান পাচ্ছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে দেশের দারিদ্র্যের হার অন্তত ১০ শতাংশ বেশি হতো। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সামাজিক অবস্থানও উন্নত করছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন সময় এসেছে রেমিট্যান্সকে শুধু ভোগে নয়, বরং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করার। বিশেষ করে এসএমই খাতে বিনিয়োগ করলে প্রবাসী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইওএম বাংলাদেশের মাইগ্রেশন পলিসি ও সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ড. ইশিতা শ্রুতি।
“রেমিট্যান্স এসএমই খাতে বিনিয়োগই প্রবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার সর্বোত্তম কৌশল”—রএই বিষয় নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্কে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দল বিজয়ী হয়। তারা স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের দলকে পরাজিত করে।
বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. এস এম মোরশেদ, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, সাংবাদিক মঈনুল আলম, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী ও সাংবাদিক আহমেদ রেজা।
logo-1-1740906910.png)