‘ইসলামিক ন্যাটো’ নিয়ে জল্পনা: বাংলাদেশ কি যোগ দেবে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান সম্প্রতি মক্কায় স্বাক্ষর করেছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫–এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা অন্য দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে অভিহিত করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট বলছে, চুক্তিতে সৌদি আরব অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে অর্থায়ন করবে, তুরস্ক দেবে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা আর পাকিস্তান যোগ করবে জনবল ও সামরিক কৌশল। এর ফলে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা জোট গড়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।
ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ঘোষণা করেছে। এর আওতায় ভারতনির্ভরতা কমিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে ঢাকা। সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন ১৪ দেশের বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিয়েছে। তুরস্কও বাংলাদেশকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে দেখছে। তারা বাংলাদেশের ফোর্সেস গোল ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় ড্রোন, নৌযান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সরাসরি মক্কা চুক্তির পূর্ণ সদস্য হবে না। কারণ এতে যুদ্ধের বাধ্যবাধকতা থাকবে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। আবার ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও যোগাযোগে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে জড়িয়ে পড়া বা ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়া ঢাকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বাংলাদেশ যদি আংশিকভাবেও এই জোটে যুক্ত হয়, তবে ভারতের জন্য তা বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হবে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার সিলিগুড়ি করিডর অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতীতে বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় ছিল। নতুন করে পাকিস্তান-তুরস্কের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা হলে ভারতের পূর্ব সীমান্তে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
এছাড়া বঙ্গোপসাগর ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার মূল কেন্দ্র। যদি বাংলাদেশ তুরস্ক বা পাকিস্তানের নৌবাহিনীকে প্রবেশাধিকার দেয়, তবে ভারতের জন্য এটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন হবে।
যুক্তরাষ্ট্র এই জোটকে স্বাগত জানালেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত দিয়েছে, যা সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তান প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, বাইরের প্রতিরক্ষা জোট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে না।
চীনও বিষয়টিকে কৌশলগতভাবে দেখছে। একদিকে তারা বাংলাদেশের বড় বিনিয়োগকারী ও অস্ত্র সরবরাহকারী, অন্যদিকে পাকিস্তান তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাই এই জোট ভারতের ওপর চাপ বাড়ালে তা বেইজিংয়ের জন্য লাভজনক হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)