Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৬

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে সে দেশের বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস। তবে ঠিক কী প্রক্রিয়ায় বা কবে থেকে কর্মী পাঠানো শুরু হবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার একাংশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার যেন সব বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত থাকে। তাদের আশঙ্কা, সীমিত সংখ্যক এজেন্সি বাছাইয়ের মাধ্যমে আবারও সিন্ডিকেট তৈরি হতে পারে।

তালিকায় থাকা এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ, খানজাহান আলী ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সীমিত সংখ্যক এজেন্সি কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল। ২০১৫ সালে ১০টি এজেন্সি কর্মী পাঠানোর অনুমতি পায়, যাদের সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি ছিল। ২০২২ সালে ২৫টি এজেন্সি কাজ পায়, যার মধ্যে কয়েকটি ছিল তৎকালীন মন্ত্রী ও এমপিদের প্রতিষ্ঠান। কর্মীপ্রতি নির্ধারিত ব্যয় ছিল ৭৯ হাজার টাকা, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে এজেন্সিগুলো গড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি নিয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ২০২৪ সালের মে মাসে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়। তখন প্রায় ১৭ হাজার কর্মী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও যেতে পারেননি।

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ আট শর্ত পূরণ করা ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়াকে দেয়। এর মধ্যে থেকে মালয়েশিয়া ২৫টি এজেন্সি বাছাই করেছে। তবে কীভাবে এই নির্বাচন হলো, তা স্পষ্ট নয়।

২০২৫ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্তের ভিত্তিতে এজেন্সির তালিকা চায়। বাংলাদেশ অন্তত তিনটি শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানায়। সাতটি শর্ত পূরণকারী ২৬০টি এবং ছয়টি শর্ত পূরণকারী ১৬৩টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে চুক্তি হওয়ার পরপরই শ্রমবাজার খোলার নজির নেই। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা, প্রক্রিয়া ও শর্ত নির্ধারণ হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। চলতি বছর চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, নবায়নের জন্য নতুন বৈঠক ও চুক্তি প্রয়োজন হবে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের একাংশ বলছেন, সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজার ছাড়া অভিবাসন ব্যয় কমানো সম্ভব নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার যেন সব বৈধ এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।

Logo