Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো সব বৈধ এজেন্সির অধিকার: বায়রা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:২০

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো সব বৈধ এজেন্সির অধিকার: বায়রা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না দিয়ে দেশের সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)। ১৯ আগস্ট রাজধানীর বিজয়নগরের ফার্স হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান সংগঠনের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “আমরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রাখার পক্ষে নই; বরং দ্রুত খুলে দেওয়ার পক্ষে। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নয়, সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাজারটি চালু করতে হবে।”

ফখরুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালে মাত্র ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হয়, যা ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালে ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে পুনরায় চালু হয়ে তা ১০১টিতে উন্নীত হয়। কিন্তু অনিয়ম ও উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগে ২০২৪ সালে আবার বাজার বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একই ধরনের অস্বচ্ছ, একচেটিয়া ও সীমিত এজেন্সিনির্ভর ব্যবস্থা আবার চালু করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

বায়রার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ১০টি মানদণ্ডের মধ্যে ৭টি শর্ত পূরণকারী ২৬০টি এবং ৬টি শর্ত পূরণকারী ১৬৩টিসহ মোট ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা পাঠানো হলেও প্রায় দুই হাজার এজেন্সি বঞ্চিত হয়েছে। মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে নতুন সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ১৭ কোটি টাকা) এবং কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বায়রার পক্ষ থেকে বলা হয়, ২৫, ৫০ বা ১০০টি এজেন্সির হাতে শ্রমবাজার সীমাবদ্ধ না রেখে এজেন্সি বাছাইয়ে স্বচ্ছ ও সবার জন্য সমান নীতিমালা করতে হবে। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারকের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে কোন এজেন্সি কর্মী পাঠাবে তা বাংলাদেশ সরকার বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। মালয়েশিয়া যদি সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিতে চায়, তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে স্বচ্ছ ডাটাব্যাংক তৈরি, কিস্তিতে ব্যয় পরিশোধের ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী সরকারি নজরদারি চালুর দাবি জানানো হয়। বায়রার পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বাংলাদেশির বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জনে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা না দিয়ে সব বৈধ, অভিজ্ঞ ও সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সিকে কাজে লাগাতে হবে।

বায়রার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেও পুরোনো সিন্ডিকেট নতুন রূপে ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বায়রার ২ হাজার ৬০০ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশকে ব্যবসার সুযোগ দিয়ে বাকিদের বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি অভিযোগ করেন, আগেরবার সিন্ডিকেটের রেট প্রায় ৫ কোটি টাকা থাকলেও এবার তা বেড়ে সাড়ে ১৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ওপর পড়বে।

তিনি আরো বলেন, “সিন্ডিকেটের কারণে একজন শ্রমিককে বিদেশ যেতে ৮-১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতে পারে, যা শ্রমিক শোষণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

প্রধানমন্ত্রী এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সিন্ডিকেট বন্ধ করে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আবার সিন্ডিকেট হলে আমরা এর বিরুদ্ধে শহীদ মিনারে আমরণ অনশনসহ আন্দোলনে যেতে প্রস্তুত।”

Logo