রেমিট্যান্সে শীর্ষে চট্টগ্রাম, সর্বনিম্ন লালমনিরহাট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০০
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস গড়েছে। প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ অঞ্চলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে সর্বাধিক হারে, যা জাতীয় গড় বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে পঞ্চগড়ে রেমিট্যান্সে তীব্র পতন দেখা গেছে, আয় কমেছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বিভাগের পাশাপাশি ঢাকা ও সিলেটও রেমিট্যান্সে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কর্মরত প্রবাসীরা এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় অবদান রাখছে।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা রেমিট্যান্সে পিছিয়ে পড়েছে। লালমনিরহাটে রেমিট্যান্স আয় ছিল মাত্র ১৮ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ কম। পঞ্চগড়েও একই প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অঞ্চলে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয় হ্রাস পেয়েছে।
রেমিট্যান্সের এই বৈষম্য দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। যেখানে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটের মতো অঞ্চলগুলোতে প্রবাসী আয় স্থানীয় ব্যবসা ও নির্মাণ খাতে গতি আনছে, সেখানে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে স্থবির।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বৃদ্ধি, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা অব্যাহত রাখায় রেমিট্যান্সে এই রেকর্ড প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রেমিট্যান্সের উৎসভিত্তিক বৈষম্য কমাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের উদ্যোগ নিতে হবে।
logo-1-1740906910.png)