বাংলাদেশ-সৌদি সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৮৪টিতে পৌঁছেছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৮
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন এভিয়েশন চুক্তির আওতায় সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা ৪৯ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ করা হবে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
১২ আগস্ট রাজধানীর সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরব সফর শেষে চার সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল এই চুক্তি সম্পাদন করেছে। নতুন ব্যবস্থা আগামী ৫ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।
সিদ্দিক জানান, হজ মৌসুমে যাত্রী চাপ সামলাতে এই বাড়তি ফ্লাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন। বাড়তি ফ্লাইটের ফলে হজ কার্যক্রম আরও সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশি যাত্রী সৌদি আরবে ভ্রমণ করেন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে। সরাসরি ফ্লাইট বাড়লে সময় ও খরচ দুটিই কমবে।
নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ কার্গো পরিবহনে ‘ফিফথ ফ্রিডম’ অধিকার পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্স সৌদি আরব হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। বিশেষভাবে স্পেনের জারাগোজা ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে কার্গো পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব পেয়েছে চীনের দুটি গন্তব্যে কার্গো পরিবহনের অধিকার।
সিদ্দিক বলেন, এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। ইউরোপীয় বাজারে দ্রুত ও কার্যকর কার্গো সংযোগ রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) যাত্রী চাপ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরটির সক্ষমতা ৮ মিলিয়ন হলেও বছরে প্রায় ১৩ মিলিয়ন যাত্রী এখানে যাতায়াত করছেন। তিনি চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো আরো বেশি ব্যবহার করার আহ্বান জানান, যাতে চাপ কমে এবং বিদ্যমান অবকাঠামো ভালোভাবে কাজে লাগে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে যাতে এটি ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা যায়। চালু হলে টার্মিনাল ১ ও ২ হজ কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত হবে, যা যাত্রী ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ঘাটতি ও কার্গো ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সিদ্দিক জানান, গোলাবারুদ সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত চলছে। এছাড়া কার্গো বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার সমস্যার সমাধানে ১১টি নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আমদানিকারকরা উন্নত সেবা পান।
logo-1-1740906910.png)