Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ফ্লাইট দেরি হলে যাত্রীর অধিকার ও সুবিধা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১৫

ফ্লাইট দেরি হলে যাত্রীর অধিকার ও সুবিধা

বিমানবন্দরে পৌঁছে জানা গেল, নির্ধারিত সময়ে উড়ছে না বিমান। কখনো আবহাওয়া, কখনো কারিগরি ত্রুটি, আবার কখনো বিমানবন্দর বা এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমস্যায় ফ্লাইট পিছিয়ে যেতে পারে। কয়েক ঘণ্টার এই দেরি অনেক সময় পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনাই এলোমেলো করে দেয়। তবে ফ্লাইট দেরি মানেই যাত্রীকে নীরবে অপেক্ষা করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। কোন দেশে, কোন রুটে এবং কী কারণে ফ্লাইট দেরি হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে যাত্রীর বেশ কিছু অধিকার ও সুবিধা থাকতে পারে।

অনেক দেশে যাত্রী সুরক্ষা আইনে বলা আছে, দীর্ঘ সময় ফ্লাইট দেরি হলে বিমান সংস্থাকে যাত্রীদের জন্য খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। যুক্তরাজ্যের নিয়মে ফ্লাইটের দূরত্ব অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় দেরি হলে যাত্রীরা খাবার, পানীয় এবং যোগাযোগের সুযোগ পাওয়ার অধিকারী। রাতভর অপেক্ষা করতে হলে হোটেল ও বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থাও করতে হয়। তবে সব দেশে একই নিয়ম নেই। তাই প্রথমেই বিমান সংস্থার কর্মীদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত, দেরির ক্ষেত্রে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

ফ্লাইটের দেরি এতটাই বেশি হলে যে যাত্রী আর সেই বিমানে যেতে চান না, কিছু দেশের আইনে টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি দেরি হলে যাত্রী ভ্রমণ না করে রিফান্ড চাইতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রেও কোনো ফ্লাইট বাতিল বা উল্লেখযোগ্যভাবে দেরি হলে এবং যাত্রী বিকল্প ফ্লাইট বা ভ্রমণ ক্রেডিট গ্রহণ না করলে টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকতে পারে।

ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নির্ভর করে দেরির কারণের ওপর। যুক্তরাজ্যের ইউকে২৬১ নিয়মে যাত্রী চূড়ান্ত গন্তব্যে তিন ঘণ্টার বেশি দেরিতে পৌঁছালে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। তবে চরম আবহাওয়া, বিমানবন্দরের বাইরের কর্মীদের ধর্মঘট, নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বা কিছু অনিবার্য পরিস্থিতিকে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি সার্কামস্ট্যান্সেস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নাও মিলতে পারে।

যদি যাত্রী নিজের পকেট থেকে খাবার, হোটেল বা যাতায়াতের খরচ করেন, তবে সব রসিদ ও প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি। যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, বিমান সংস্থা প্রয়োজনীয় সহায়তা না দিলে যাত্রী যুক্তিসংগত খরচ নিজে বহন করে পরে তা ফেরত চাইতে পারেন। তবে বিলাসবহুল হোটেল বা অস্বাভাবিক দামের খাবারের খরচ সাধারণত গ্রহণযোগ্য হয় না।

সংযোগকারী ফ্লাইট মিস হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। একই বুকিংয়ের আওতায় থাকা সংযোগকারী ফ্লাইট হলে অনেক দেশে নতুন ফ্লাইট, খাবার বা রাতযাপনের ব্যবস্থা পাওয়ার সুযোগ থাকে। যুক্তরাজ্যের নিয়মে একই বুকিংয়ের সংযোগকারী ফ্লাইট দেরির কারণে যাত্রী চূড়ান্ত গন্তব্যে তিন ঘণ্টার বেশি দেরিতে পৌঁছালে ক্ষতিপূরণও দাবি করা যেতে পারে। তবে আলাদা টিকিটে ‘সেল্ফ-ট্রান্সফার’ করলে একই ধরনের আইনি সুরক্ষা সব সময় পাওয়া যায় না।

ফ্লাইট দেরি হলে যাত্রীদের উচিত প্রথমেই বিমান সংস্থার কাছ থেকে দেরির কারণ ও নতুন সম্ভাব্য সময় জেনে নেওয়া। বিমানবন্দরের ডিসপ্লে, এসএমএস, ই-মেইল বা এয়ারলাইনের অ্যাপের আপডেট নিয়মিত দেখা জরুরি। বোর্ডিং পাস ও টিকিটের কপি রেখে দিতে হবে, দেরির ঘোষণা বা বার্তার স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করতে হবে। খাবার, হোটেল বা যাতায়াতের জন্য খরচ হলে রসিদ রাখতে হবে। ক্ষতিপূরণ বা খরচ ফেরতের দাবি থাকলে বিমান সংস্থার নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে।

সব দেশের নিয়ম এক নয়। ফ্লাইট কোথা থেকে ছাড়ছে, কোথায় যাচ্ছে, কোন বিমান সংস্থা পরিচালনা করছে এবং দেরির কারণ কী- এসব বিষয় বিবেচনায় আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি বিমানযাত্রীদের অধিকার আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে, যা কার্যকর হলে যাত্রীদের সুরক্ষা আরো বাড়বে।

তাই ফ্লাইট দেরি হলে শুধু বিরক্ত হয়ে অপেক্ষা না করে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন, বিমান সংস্থার কাছে দাবি জানান এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করুন। এতে কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা অন্তত আর্থিক ক্ষতির বোঝা হয়ে দাঁড়াবে না।

Logo