Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তায় আইনি নিশ্চয়তা জরুরি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১০

প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তায় আইনি নিশ্চয়তা জরুরি

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারো প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। একজন শ্রমিক প্রাণে বেঁচে গেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে জানালা ছিল না, দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল এবং পর্যাপ্ত অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। শ্রমিকরা নিয়মিতভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় কাজ করতেন।

এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রিয়াদে একটি কারখানায় আগুনে তিনজন বাংলাদেশি শ্রমিক মারা যান। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আল-হোফুফে একটি আসবাবপত্র কারখানায় নয়জনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মদিনার কাছে একটি সোফা কারখানায় আগুনে ছয়জন বাংলাদেশি প্রাণ হারান।

প্রবাসীকল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে মারা যান। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মৃত্যুই ঘটে সৌদি আরবে। ২০২০ সালে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১৪০ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩৮ জনে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আরো ১ হাজার ৭৫৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। ২০০৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন।

এই ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষনে বোঝা যায়, কেবল দ্বিপক্ষীয় আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ, সৌদি আরবসহ শ্রীলঙ্কা, ভারত ও নেপালের মতো শ্রমিক প্রেরণকারী দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তিতে বাধ্যতামূলক শর্ত থাকতে হবে— কর্মস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নি-নিরাপত্তা, নিয়মিত ও স্বাধীন পরিদর্শন, দুর্ঘটনা রিপোর্টিং, তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ। আইন লঙ্ঘন করলে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ‘প্রাকৃতিক মৃত্যু’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত না করা হয়।

বাংলাদেশকেও শ্রমিক প্রেরণের ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া কোনো শ্রমিককে বিদেশে পাঠানো উচিত নয়। বিশ্বের অন্যতম বড় শ্রমিক প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি জোরালোভাবে তুলতে হবে। সৌদি শ্রমবাজার হারানোর ভয়ে নীরব থাকা কোনো সমাধান নয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এ ধরনের আলোচনায় সহায়তা করতে হবে এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বিশেষ করে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর আওতায় ব্যাপক নির্মাণকাজ চলায় শ্রমিকদের ঝুঁকি আরো বাড়ছে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Logo