রেমিট্যান্সে গুটিকয়েক দেশের ওপর নির্ভরতা আত্মঘাতী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৮
বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় বিগত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আয় দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে শক্তিশালী করেছে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, মোট রেমিট্যান্সের ৬২ শতাংশ এসেছে মাত্র পাঁচটি দেশ থেকে। এ ধরনের ঘনত্ব দীর্ঘমেয়াদে আত্মঘাতী হতে পারে।
গত কয়েক বছরের প্রবাহে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং ওমান রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আসে। তবে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা বা পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে রেমিট্যান্সের অংশ তুলনামূলকভাবে কম। এর ফলে বাংলাদেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট শ্রমবাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি বড় ঝুঁকি। কারণ কোনো একটি দেশে নীতিগত পরিবর্তন, শ্রমবাজার সংকোচন বা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ হঠাৎ কমে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে সংকট দেখা দিয়েছিল, যার প্রভাব বাংলাদেশি কর্মীদের ওপরও পড়েছিল।
তাই রেমিট্যান্স উৎস বৈচিত্র্যকরণ এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশকে নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে হবে। আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা কিংবা উন্নত এশীয় দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। কূটনৈতিক মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় হয়ে নতুন বাজার চিহ্নিত করা, শ্রমচুক্তি স্বাক্ষর এবং কর্মীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে।
তবে শুধু নতুন দেশে কর্মী পাঠানোই যথেষ্ট নয়। বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশকে তাই দক্ষতা উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হবে। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে সম্ভাব্য গন্তব্য দেশের নির্দিষ্ট চাহিদা পূরণ হয়। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ভাষাজ্ঞান, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং শ্রম অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হতে হবে। এতে বাংলাদেশি কর্মীরা বিশ্বব্যাপী যোগ্য পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, আর নিম্ন দক্ষতা ও কম মজুরির চাকরিতে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না।
রেমিট্যান্স বৈচিত্র্য ও দক্ষতা উন্নয়ন একসাথে এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশ শুধু বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে পারবে না, বরং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থানও তৈরি করতে সক্ষম হবে। রেকর্ড রেমিট্যান্স আয়কে টেকসই করতে হলে এখনই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
logo-1-1740906910.png)