Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ভারত থেকে মৃতদেহ আনার নিয়ম ও খরচ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৬

ভারত থেকে মৃতদেহ আনার নিয়ম ও খরচ

প্রতিদিনই চিকিৎসা, ভ্রমণ বা ব্যবসার কাজে বহু বাংলাদেশি ভারত যান। বেশির ভাগই চিকিৎসা শেষে ফিরে আসেন, কেউ ভ্রমণ বা ব্যবসা শেষে দেশে ফেরেন। তবে মাঝেমধ্যেই খবর আসে, ভারতে গিয়ে কেউ মারা গেছেন। তখন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিবার পড়েন বিপাকে। আসলে এ কাজের জন্য বেশ কিছু ধাপ সম্পন্ন করতে হয় এবং নির্দিষ্ট কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হয়।

প্রথম ধাপ হলো ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ। রোগী হাসপাতালে যে চিকিৎসকের অধীনে ছিলেন, তিনি মৃত্যুর সনদ দেন। হাসপাতালের প্রশাসন বিভাগ থেকে এটি পাওয়া যায়। সাধারণত ১০টি কপি করে রাখা হয়।

এরপর প্রয়োজন হয় পুলিশের এনওসি। ডেথ সার্টিফিকেট ও রোগীর এটেন্ডেন্টের পাসপোর্ট নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় যেতে হয়। সেখানে নাম, ঠিকানা দিয়ে এনওসি সংগ্রহ করতে হয়। এ জন্য কোনো টাকা লাগে না।

তৃতীয় ধাপে যেতে হয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে। মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট বাতিল করে সেখানে আরেকটি এনওসি সংগ্রহ করতে হয়। এটিও একাধিক কপি করে রাখা জরুরি।

চতুর্থ ধাপে যেতে হয় এফআরও (Foreigners Registration Office)। এখানে রেজিস্ট্রেশন করলে মেডিকেল ও আইনি কাজ সম্পন্ন হয়।

পঞ্চম ধাপে প্রয়োজন হয় এম্বালমিং সার্টিফিকেট। মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ভারতে কয়েকটি সংস্থা কাজ করে। এর মধ্যে Peace Heaven ও Green Ambulance উল্লেখযোগ্য। তারা নির্দিষ্ট ফি নিয়ে মরদেহ সংরক্ষণ, কফিন ও মর্গ চার্জের ব্যবস্থা করে। উদাহরণস্বরূপ, Peace Heaven প্রায় ১৬ হাজার ২০০ রুপি নিয়ে ৭২ ঘণ্টার জন্য সংরক্ষণ ও কফিনের ব্যবস্থা করে।

মরদেহ দেশে আনতে হলে এই পাঁচটি কাগজপত্র অবশ্যই থাকতে হবে- ডেথ সার্টিফিকেট, পুলিশের এনওসি, হাইকমিশনের এনওসি, এফআরও রেজিস্ট্রেশন ও এম্বালমিং সার্টিফিকেট। প্রতিটি কাগজের একাধিক কপি তৈরি করে আলাদা সেট রাখা জরুরি।

মরদেহ আনার দুটি পথ রয়েছে- বাই রোড বা বাই এয়ার। সড়কপথে আনতে হলে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয় এবং বিকেল ৫টার মধ্যে সীমান্তে পৌঁছাতে হয়, কারণ সন্ধ্যা ৬টার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। বিমানপথে আনতে হলে কার্গো বিভাগে কাগজপত্র জমা দিতে হয়। মরদেহ পরিবহনে আলাদা খরচ লাগে না, তবে এটেন্ডেন্টের টিকিট প্রয়োজন হয়। সড়কপথে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের সময় প্রায় ৯ হাজার রুপি জমা দিতে হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হাসপাতালে স্বাভাবিক মৃত্যু হলে পোস্টমর্টেমের প্রয়োজন নেই। কিন্তু হোটেল বা বাসায় মৃত্যু হলে পুলিশ কেস ও পোস্টমর্টেম বাধ্যতামূলক। একইভাবে দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যার ক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম ছাড়া মরদেহ দেশে আনা সম্ভব নয়।

Logo