Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিশ্বের ২৭ দেশে নেই বাংলাদেশ মিশন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০২

বিশ্বের ২৭ দেশে নেই বাংলাদেশ মিশন

বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের ২৭টি দেশে নিজস্ব কূটনৈতিক মিশন না থাকা। এসব দেশে অন্তত ৫৬ হাজার ৪৩০ জন কর্মী অবস্থান করছেন, কিন্তু কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলার সেবা না থাকায় তারা নানা সমস্যায় পড়ছেন। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, আইনি জটিলতা, নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধ, বকেয়া বেতন না পাওয়া কিংবা দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হলেও সরাসরি কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না তারা। বাধ্য হয়ে পাশের দেশের বাংলাদেশ মিশনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা দূরত্ব ও সময়ের কারণে জরুরি মুহূর্তে কার্যকর হয় না। অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য  জানা যায়।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রবাসী রয়েছেন কম্বোডিয়ায়, ১৫ হাজার ৯২৩ জন। এরপর কিরগিজস্তান ৬ হাজার ৬৬৩ জন, সার্বিয়া ৫ হাজার ৯৯১ জন, লাওস ৫ হাজার ৭৭৮ জন এবং কঙ্গোতে ৫ হাজার ১২০ জন। এছাড়া ফিজি, বেলারুশ, উত্তর মেসিডোনিয়া, ব্রাজিল, মঙ্গোলিয়া, গ্রিস, মাল্টা, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়াতেও হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী কনস্যুলার সেবাবঞ্চিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সম্প্রতি কম্বোডিয়াসহ মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কনস্যুলার নজরদারি না থাকায় অনেক কর্মী দালালের ফাঁদে পড়ে ভুয়া প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আটকা পড়ছেন। এমনকি সাইবার অপরাধ চক্রের ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কম্বোডিয়া ফেরত প্রবাসীরা জানিয়েছেন, বিপদে পড়লে কোনো কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়া যায় না, শেষ পর্যন্ত দালালদের মুখাপেক্ষী হতে হয়।

ইউরোপের গ্রিসে থাকা বাংলাদেশিরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। সেখানে দূতাবাস না থাকায় পাসপোর্ট তৈরি বা নবায়ন করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে প্রবাসীদের জীবনযাত্রা ও কর্মসংস্থান আরও জটিল হয়ে উঠছে।

দূতাবাস শুধু পাসপোর্ট বা ভিসা সংক্রান্ত কাজের জায়গা নয়। কোনো কর্মী দুর্ঘটনায় পড়লে, গ্রেপ্তার হলে, শ্রমিকের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে কিংবা মৃত্যু হলে লাশ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে দূতাবাসের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু মিশনহীন দেশগুলোতে এসব জরুরি সেবার অভাবে প্রবাসীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের প্রধান আল আমিন নয়ন বলেছেন, কম্বোডিয়াসহ মিশনহীন দেশগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে। কর্মী পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের পরিস্থিতি যাচাই এবং পাঠানোর পর রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করা জরুরি।

Logo