দীর্ঘ ২৫ বছরের কর্মসম্পর্ক, ভালোবাসা ও বিশ্বস্থতার টানে সৌদি আরবের স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. খালেদ আহমেদ সালেহ আল গমেদী ছুটে এলেন তার প্রিয় বাংলাদেশি কর্মী মো. নাজির মিয়ার বাড়িতে। বাংলাদেশের কুমিল্লার এক প্রত্যন্ত গ্রামে এ বিরল দৃশ্যের জন্ম হলো।
৭ আগস্ট বিকেলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের জামতলী গ্রামে প্রবাসী নাজির মিয়ার বাড়িতে পৌঁছান এই বিশেষ অতিথি। তার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় তরুণরা মোটরবাইক শোভাযাত্রা করে তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা জানিয়ে গ্রামে নিয়ে আসেন।
নাজির মিয়ার পরিবার জানায়, প্রায় আড়াই দশক ধরে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ডা. গমেদীর প্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। মালিক-কর্মীর সম্পর্ক ছাপিয়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর আত্মিক টান। সেই টানেই সৌদি চিকিৎসক ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে বাংলাদেশে আসেন।
ডা. গমেদীর আগমনে গ্রামবাসী ভিড় করে নাজিরের বাড়িতে। তাকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে আসে। পুরো গ্রাম যেন উৎসবের আবহে ভরে ওঠে। স্থানীয়রা তাকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান এবং পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নাজির মিয়া বলেন, “২৫ বছর ধরে আমি তার সঙ্গে আছি। তিনি শুধু আমার নিয়োগকর্তা নন, অত্যন্ত উদার ও ভালো মনের একজন মানুষ। কয়েক বছর ধরেই তিনি আমার দেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। তাকে আমার জন্মভূমিতে অতিথি হিসেবে আপ্যায়ন করতে পেরে আমি ধন্য।”
অন্যদিকে ডা. গমেদী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বাংলাদেশ চমৎকার একটি দেশ। এখানকার মানুষের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। সুযোগ পেলে বারবার এই সুন্দর দেশে ফিরে আসতে চাই।”
তার আগমনে গ্রামবাসীর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বলছিলেন, একজন সৌদি নাগরিক ও প্রখ্যাত চিকিৎসক তাদের গ্রামে আসবেন, তা কল্পনাতীত ছিল। কিন্তু নাজির মিয়ার দীর্ঘ কর্মসম্পর্ক ও ভালোবাসার টানে সেটিই সম্ভব হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)