বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা ও বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার নামে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় হাইকমিশন জানায়, প্রতারক চক্র নিজেদের ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তারা অর্থের বিনিময়ে ভিসা বা অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
হাইকমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা কখনোই ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ই-মেইলের মাধ্যমে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব দেন না কিংবা অর্থ দাবি করেন না। সব ধরনের ভিসা আবেদন নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসারেই নিষ্পত্তি করা হয়।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এ ধরনের ফোনকল, বার্তা বা প্রস্তাব পেলে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন করা যাবে না। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাইকমিশন জানিয়েছে, কেউ প্রতারণার এমন ঘটনার মুখোমুখি হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে জানাতে হবে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বর, স্ক্রিনশট বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য visa.dhaka@mea.gov.in ঠিকানায় পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশন বলছে, প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও অসচেতনতার সুযোগ নিচ্ছে। তাই শুধু নিজে সতর্ক থাকা নয়, অন্যদের মধ্যেও এ বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে প্রতারণার ঝুঁকি কমবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকবে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করেন। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনসহ নানা কারণে তারা ভারতে যান। ফলে ভিসা সংক্রান্ত প্রতারণার সুযোগও বেশি থাকে। প্রতারকরা সাধারণত দ্রুত ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বাস্তবে এসব ভিসা কখনোই পাওয়া যায় না।
হাইকমিশনের সতর্কবার্তা প্রমাণ করে, ভারত সরকার ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভিসা আবেদনকারীদের উচিত নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইট ও অনুমোদিত ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন করা। কোনো ধরনের শর্টকাট বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ভারতীয় হাইকমিশনের আহ্বান অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রতারণার কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত অভিযোগ জানাতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচার বাড়ানো জরুরি, যাতে আরো বেশি মানুষ সতর্ক হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)