বিদেশিদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অনলাইন প্রতারণার বিশাল নেটওয়ার্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫
রাজধানীতে অনলাইন প্রতারণা ও জুয়ার মাধ্যমে প্রতি মাসে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। মোবাইলে বিভিন্ন অফার, চাকরি ও অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে তারা অর্থ হাতিয়ে নিত। ১ আগস্ট রাতে ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তিন চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রান (৪২)। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিম, ল্যাপটপ, গেটওয়ে ডিভাইস ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল ভাটারা থানার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালায়। ভবনটি ভাড়া নিয়েছিলেন ঝর্না চাকমা জিয়ানা। তিনি নিচতলায় থাকলেও বাকি পাঁচটি তলা চীনা নাগরিকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তারা সেখানে অবস্থান করে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও অবৈধ গেটওয়ে কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখান থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি মোবাইল ফোন, প্রায় ৬ হাজার সিম, বিভিন্ন অপারেটরের সিম স্লট, ২০টি গেটওয়ে ডিভাইস, বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।
চক্রটি মোবাইলে বিভিন্ন অফার, চাকরি কিংবা অতিরিক্ত আয়ের লোভনীয় বার্তা পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। প্রায় ৬ হাজার সিম ব্যবহার করে তারা কার্যক্রম চালাত। একটি মোবাইল ডিভাইসে একসঙ্গে ১২টি পর্যন্ত সিম ব্যবহার করা হতো। প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, একটি গেটওয়ের মাধ্যমেই প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হতো। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন চীনা নাগরিক ও তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তাই অনলাইনে বিভিন্ন লোভনীয় অফারে ক্লিক করার আগে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এসব ফাঁদে পড়ে অনেক মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন।
logo-1-1740906910.png)