বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে আবারো ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার বা ২৮৫ কোটি ডলার। এর আগে জুন মাসেও রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল। ফলে টানা দুই মাস ধরে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলারের কম থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে জুন থেকে কিছুটা বেশি এসেছে জুলাই মাসের রেমিট্যান্স।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন দেখা দেয়। সেই ধারা অব্যাহত থেকে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত টানা ছয় মাস রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। এর মধ্যে মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।
এরপর এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স আসে ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার এবং মে মাসে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। তবে জুন থেকে আবারো প্রবাহে ধীরগতি শুরু হয়। জুলাই মাসে রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়নের নিচে নেমে গেলেও আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের একই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর আগে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বৈধ পথে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। আর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের সর্বশেষ অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহে ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও ধারাবাহিকভাবে ৩ বিলিয়নের নিচে নেমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য সতর্ক সংকেত। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাদের মতে, প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা বাড়ানো, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী কার্ড চালুর মতো উদ্যোগ রেমিট্যান্স প্রবাহকে আবারো গতিশীল করতে পারে।
logo-1-1740906910.png)