Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সুবাতাসের ইঙ্গিত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সুবাতাসের ইঙ্গিত

ভারতের লোকসভায় উপস্থাপিত সর্বশেষ পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কাঠামোয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও জনগণকেন্দ্রিক বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান ধরে রাখতে নয়াদিল্লি সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

কমিটি জোর দিয়ে বলেছে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হওয়া উচিত দুই দেশের সংসদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও বিনিময়। বাংলাদেশের নতুন সংসদ ও সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে সংসদীয় প্রতিনিধি দলের পারস্পরিক সফরের আয়োজন করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিনিময়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন কমিটি শেখ হাসিনার বিষয়েও জানতে চেয়েছিল। জবাবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসারে বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারত সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে বিষয়টি মানবিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার চেতনার আলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। লোকসভা কমিটি নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভারতের স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠন ও আরো গতিশীল করতে হবে। পারস্পরিক স্বার্থ ও সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। কমিটি আশা প্রকাশ করেছে, নির্বাচিত সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

বাংলাদেশে চীনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের চীন সফরকে বেইজিংয়ের বিস্তৃত যোগাযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে। বিদেশি শক্তিগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

ভিসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার সুপারিশও করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর ভিসা প্রক্রিয়ায় টানাপোড়েন দেখা দেয়। কমিটি মনে করে, ভিসা সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখেও দ্রুত ভিসা প্রদান স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে দিনে দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ মেডিকেল ভিসা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরো বেশি ভিসা দেওয়া হবে।

Logo