Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রতারণা বন্ধ না করলে শনির দশা: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬

প্রতারণা বন্ধ না করলে শনির দশা: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অভিবাসন খাতে সিন্ডিকেট ও প্রতারণা বন্ধ না করলে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ‘কপালে শনির দশা আছে’। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া দালাল ও প্রতারক চক্রকে আর সহ্য করা হবে না।

৩০ জুলাই রাজধানীর শাহবাগ ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)-এর যৌথ উদ্যোগে অনলাইন কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউলের উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। প্রতারিত অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য দ্রুত ও কার্যকর অভিযোগ প্রতিকার নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার ক্ষেত্রে একজন প্রবাসীর কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। অথচ সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ এই টাকা নেয় না। অথরাইজড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলো সীমিত চার্জ নেয়, কিন্তু সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করে এজেন্সিগুলো শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, প্রতারক চক্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে।

নুরুল হক আরো বলেন, অনেক এজেন্সি যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও লাইসেন্স নবায়ন করছে। এটি আর বরদাশত করা হবে না। দেশের নাগরিকদের প্রতি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। অভিবাসন খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশে পাঠানোর বিজ্ঞাপন দেওয়া আইনবিরোধী। এসব প্রতারণা রুখতে বিএমইটিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র প্রবাসীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অপকর্ম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি জানান, দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং লাইসেন্সধারীর মধ্যে অধিকাংশই অনিয়মে জড়িত। সঠিকভাবে নিয়ম মানলে চার-পাঁচ শতাধিক লাইসেন্স টিকবে না।

অনুষ্ঠানে রামরুর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, প্রায় ৫১ শতাংশ অভিবাসী কোনো না কোনোভাবে প্রতারণার শিকার হন। ১৯ শতাংশ অর্থ দিয়েও বিদেশে যেতে পারেননি এবং ৩২ শতাংশ বিদেশে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি মনে করেন, নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের পরিমাণ ১০ গুণ বাড়বে।

তাসনিম সিদ্দিকী আরো জানান, প্রতারণার কারণে নারী অভিবাসনের সংখ্যা কমে গেছে। নতুন মডিউলের মাধ্যমে প্রবাসীরা ঘরে বসেই অভিযোগ দিতে পারবেন এবং এর অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন। এতে অফিসে বারবার আসার ঝামেলা কমবে এবং অভিবাসন খাতে সুশাসন নিশ্চিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের সচেতন হতে হবে। অনেকেই প্রতারণার শিকার হন, তাই দালাল চক্রের ফাঁদে না পড়তে সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ। তিনি বলেন, প্রবাসীদের অভিযোগের বেশির ভাগই সত্য। বিদেশে নেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ, দেশে সম্পদ বেদখল বা প্রবাসে নিখোঁজ হওয়ার মতো অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আসে। নতুন পদ্ধতিতে প্রবাসীরা ঘরে বসেই অভিযোগ দিতে পারবেন।

বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ জানান, এখন থেকে বিশ্বজুড়ে প্রবাসীরা অনলাইনে অভিযোগ দিতে পারবেন এবং অভিযোগ কোন স্তরে আছে তা জানতে পারবেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বিএমইটি ম্যানুয়ালি ৫০০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করে প্রবাসীদের ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এনে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে সৌদি প্রবাসী হাফিজুরের স্ত্রী বীথি আক্তার ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী মজুমদার আলী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

বিএমইটি, রামরু ও সিসটেক ডিজিটাল লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই অনলাইন কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউল দেশের সব জেলা কর্মসংস্থান অফিস ও বিএমইটির কেন্দ্রীয় অভিযোগ ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসবে। এর মাধ্যমে অভিযোগের প্রতিটি ধাপ অনলাইনে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা অভিবাসন খাতে সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

Logo