চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও কর্মী গেছেন। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক গেছেন সৌদি আরবে। দেশটিতে ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৭০ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।
সৌদি আরবের পরেই রয়েছে সিঙ্গাপুর, যেখানে ৩৬ হাজার ৩০৭ জন শ্রমিক গেছেন। কাতারে গেছেন ২৯ হাজার ৮৮ জন। মালদ্বীপে গেছেন ১৩ হাজার ৯১৫ জন, কুয়েতে ১০ হাজার ৭৮৯ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ৯ হাজার ৩৪০ জন।
মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়ছে। ইতালিতে গেছেন ৪ হাজার ৭৫৫ জন, পর্তুগালে ৩ হাজার ৪৪৪ জন এবং গ্রিসে গেছেন ৫১৩ জন। এছাড়া রাশিয়া, সার্বিয়া, সাইপ্রাস, রোমানিয়া ও মলদোভায়ও বাংলাদেশি কর্মীরা কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। জাপানে গেছেন ১ হাজার ১৬৮ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬৪২ জন, মালয়েশিয়ায় ৭৮৯ জন এবং ভিয়েতনামে গেছেন ৭৩৪ জন। কম্বোডিয়ায় গেছেন ৩ হাজার ৬৬০ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ে নতুন একটি গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।
আফ্রিকার দেশগুলোতেও বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। কঙ্গোতে গেছেন ১ হাজার ৬১৯ জন, মৌরিতাসে ১ হাজার ৫৪০ জন এবং সুদানে গেছেন ১৬৯ জন। এছাড়া মোজাম্বিক, আইভরি কোস্ট ও লিবিয়াতেও বাংলাদেশি কর্মীরা গেছেন।
তালিকায় দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশেও বাংলাদেশি শ্রমিকরা বৈধ পথে গেছেন। যদিও সংখ্যায় তা তুলনামূলক কম।
বিএমইটির তথ্য বলছে, এ ছয় মাসে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক গেছেন। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈধ পথে শ্রমিক পাঠানো বাড়লে প্রবাসীরা নিরাপদ থাকবেন এবং রেমিট্যান্স প্রবাহও স্থিতিশীল হবে। তবে নতুন বাজার খুঁজে বের করা এবং শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।
অতএব, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বৈধ পথে লাখো বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে গেছেন। সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ও কাতার শীর্ষে থাকলেও ইউরোপ ও আফ্রিকার নতুন বাজারেও বাংলাদেশি কর্মীরা সুযোগ পাচ্ছেন।
logo-1-1740906910.png)