Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ভূমধ্যসাগর থেকে সাইবার স্ক্যাম: প্রতারণার ফাঁদে বন্দি বাংলাদেশিরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩

ভূমধ্যসাগর থেকে সাইবার স্ক্যাম: প্রতারণার ফাঁদে বন্দি বাংলাদেশিরা

বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারের প্রবণতা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ইউরোপে প্রবেশের জন্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাইবার স্ক্যামের ফাঁদে পড়া; সবই এখন মানব পাচারের নতুন রূপ। এ বাস্তবতায় আজ ৩০ জুলাই পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস। জাতিসংঘ ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর দিনটিকে মানব পাচারবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় “প্রতারণার ফাঁদে বন্দি”।

ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ইতালিতে প্রবেশ করেছেন ৪ হাজার ২৪৯ জন এবং গ্রীসে গেছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি। এভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি থেকে অসংখ্য বাংলাদেশি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের পরিবারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। মার্চ মাসে লিবিয়া থেকে গ্রীসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারান, যার মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের।

মানব পাচারের পাশাপাশি নতুন সংকট হয়ে উঠেছে সাইবার স্ক্যাম। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ-তরুণীদের কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস কিংবা ভিয়েতনামে নিয়ে গিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছে। ব্র্যাকের গবেষণা বলছে, বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ৯৮ শতাংশ কোনো চাকরি পাননি। বরং তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে ৯০ শতাংশকে জালিয়াতিমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ রাজি না হলে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন। তাদের অধিকাংশই চাকরি পাননি। বরং স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি হয়ে প্রতারণার কাজে যুক্ত হয়েছেন। এ বছরের জুনে কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ভয়াবহ- পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, কোডনামে পরিচয় দেওয়া, নির্ধারিত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মানব পাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। পুরোনো মামলাসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬টি বিচারাধীন এবং প্রায় ২ হাজার মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কম্পিউটার অপারেটর বা কল সেন্টারের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণদের প্রলুব্ধ করা হয়। পরে তাদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। কেউ রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

অতএব, মানব পাচার এখন শুধু সাগরপথে ইউরোপে প্রবেশের সীমাবদ্ধতায় নেই, বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন এক দাসত্ব তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবসে বার্তাটি স্পষ্ট—প্রতারণার ফাঁদে না পড়তে সচেতনতা, সরকারি তদারকি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো জোরদার করতে হবে।

Logo