Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মানব পাচার দমনে নতুন আইন, তবু বিচারহীনতার শঙ্কা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬

মানব পাচার দমনে নতুন আইন, তবু বিচারহীনতার শঙ্কা

বাংলাদেশে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ পুরোনো আইনকে বাতিল করে একীভূত কাঠামো তৈরি করেছে। এতে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান উভয় অপরাধকে একই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন আইনে মানব পাচারের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়েছে। জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, দাসত্ব বা অপরাধমূলক কাজে বাধ্য করাকে মানব পাচার হিসেবে ধরা হবে। অন্যদিকে অভিবাসী চোরাচালানকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে অবৈধভাবে বিদেশে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধ হিসেবে।

শাস্তির দিক থেকেও আইনটি কঠোর। সংঘবদ্ধ মানব পাচারের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অভিবাসী চোরাচালানেও সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। নথি জালিয়াতি বা পাচারকারীদের সহযোগিতার মতো অপরাধে তিন থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় আইনটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না- এ নীতি বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সাক্ষীদের নিরাপত্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা জোরপূর্বক আপসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আইনটি জাতিসংঘের মানব পাচারবিরোধী প্রটোকল ও সার্ক কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।

তবে বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মানবপাচার আইনে ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৭৮টি তদন্তাধীন এবং ৩ হাজার ৩০৬টি বিচারাধীন। মামলার নিষ্পত্তির হার অত্যন্ত কম, আর অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা খালাস পাচ্ছেন।

প্রযুক্তিনির্ভর মানব পাচারও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে পাচারকারীরা মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। নতুন আইন এসব ডিজিটাল পদ্ধতিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা এখনো সীমিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন করলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান মনে করেন, পাচারকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃঢ় অঙ্গীকার ছাড়া মানব পাচার, অর্থ পাচার ও মাদকের মতো আন্তঃসম্পর্কিত অপরাধ নির্মূল করা কঠিন।”

অতএব, নতুন আইন মানবপাচার দমনে শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করলেও বিচারহীনতা ও বাস্তবায়নের ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

Logo