প্রবাসীদের মাধ্যমেই ২০০-৩০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সম্ভব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪
অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ আর্থিক ও বিনিয়োগ সুবিধা চালু করা গেলে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ দেশে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) সম্মাননীয় ফেলো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর।
২৩ জুলাই রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস) বিশ্লেষণ এবং আন্তঃসীমান্ত রেমিট্যান্স’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, নগদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনুষ্ঠানিক আর্থিক চ্যানেলের ব্যবহার বাড়াতে হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরো শক্তিশালী হবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার ঘটানো গেলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এজন্য লেনদেন ব্যয় কমানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। প্রয়োজনে সরকার সাময়িকভাবে ডিজিটাল লেনদেনে প্রণোদনা বা ভর্তুকি দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল অন্যান্য ভর্তুকির তুলনায় বেশি হবে।
ড. মনসুর আরো বলেন, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সেবা আরো সাশ্রয়ী করতে হবে। পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং নগদবিহীন অর্থনীতিতে উত্তরণকে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, রেমিট্যান্স বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ। এই অর্থকে শুধু ভোগে নয়, উৎপাদনশীল বিনিয়োগে প্রবাহিত করার জন্য নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তিনি হুন্ডির পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংকিং খাত, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বলা হয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে কম খরচে দ্রুত রেমিট্যান্স পাঠানো সম্ভব হবে। এতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে এবং হুন্ডির ওপর নির্ভরতা কমবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ জাহিদ ইকবাল জানান, উন্মুক্ত উৎসের মোজালুপ প্ল্যাটফর্মে আইআইপিএস উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে খরচ কমানো, স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা কাস্টমাইজ করা এবং ব্যাংক, পেমেন্ট সেবাদাতা ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল অবকাঠামোর আওতায় আনা হবে।
বিকাশ লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শেখ ইবনে জিলানী বলেন, একটি আন্তঃপরিচালনযোগ্য তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে বেসরকারি খাতের প্ল্যাটফর্মগুলো একীভূত করার সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)