ইউরোপের সমৃদ্ধ দেশ মন্টেনিগ্রো নিকট ভবিষ্যতে শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের এখনো কোনো কূটনৈতিক মিশন নেই। মন্টেনিগ্রোতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই, এমনকি বাংলাদেশে মন্টেনিগ্রোরও কোনো দূতাবাস নেই। বর্তমানে ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মন্টেনিগ্রোতে বাংলাদেশের হয়ে কাজ করছে।
মন্টেনিগ্রো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার হয়ে উঠতে পারে। দেশটির অর্থনীতি পর্যটন, নির্মাণ, কৃষি, সেবা খাত ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল। এসব খাতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, কৃষি উৎপাদন ও নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের উচিত মন্টেনিগ্রোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করে সেখানে একটি দূতাবাস স্থাপন করা। দূতাবাস স্থাপন হলে শ্রমিকদের ভিসা, কনস্যুলার সেবা ও আইনি সহায়তা সহজ হবে। একই সঙ্গে দেশটির সঙ্গে শ্রমবাজার নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করা গেলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। মন্টেনিগ্রোর অর্থনৈতিক খাতগুলোতে কোন ধরনের শ্রমিকের চাহিদা বেশি, তা খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা জরুরি। দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে পাঠানো হলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
মন্টেনিগ্রো বাংলাদেশের জন্য নতুন এক দিগন্ত খুলে দিতে পারে। শেনজেনভুক্তির পথে থাকা দেশটির সঙ্গে এখনই সম্পর্ক জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে তা হবে একটি লাভজনক শ্রমবাজার। দূতাবাস স্থাপন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও শ্রমিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিকরা সেখানে নিরাপদে কাজ করতে পারবেন।
logo-1-1740906910.png)