ইতালি পাঠানোর নামে প্রতারণা, ৫৬ পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার ৭
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪
ইতালি পাঠানোর নামে প্রতারণা করে পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে অন্য নারীকে পাচারের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থেকে সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
২০ জুলাই সিআইডির মানব পাচার শাখা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালায়। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইতালির দূতাবাসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর পাসপোর্ট নবায়নের সময় অভিযুক্ত নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে ভিসা ও পাসপোর্ট নবায়নে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে গুলশানের একটি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। সেখানে প্রতিষ্ঠান প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
চক্রটি ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাসে আর্থিক চুক্তি করে। পরে টাকা দাবি করে জোরপূর্বক পাসপোর্ট নিয়ে যায় এবং টাকা দেওয়ার পর ফেরত দেয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে বিমানবন্দরে গিয়ে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, তার পাসপোর্টে সংযুক্ত ভিসা ব্যবহার করে অন্য এক নারী ইতিমধ্যেই ইতালি চলে গেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), মো. সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), মো. তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মূলহোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
সিআইডি জানিয়েছে, বিদেশে কর্মসংস্থান বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর করা যাবে না। ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি রাখা বা জালিয়াতির সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।
logo-1-1740906910.png)