বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএমইটি (ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং) এই কার্ড ইস্যু করবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা পাবেন ১০টি বিশেষ সরকারি সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, সরকারি সেবা সহজলভ্যতা এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন সহায়তা।
প্রবাসী কার্ডের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা এবং তাদের সরকারি সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা। কার্ডধারীরা পাবেন—
১. সরকারি হাসপাতাল ও অফিসে অগ্রাধিকার সেবা
২. দেশে বিনিয়োগে বিশেষ কর ছাড়
৩. বিমানবন্দরে আলাদা কাউন্টার সুবিধা
৪. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে সহজ ঋণ সুবিধা
৫. সন্তানদের জন্য শিক্ষা সহায়তা
৬. দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ
৭. সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ
৮. জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাসের দ্রুত সহায়তা
৯. অনলাইন সেবা ও তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার
১০. প্রবাসী দিবসে বিশেষ সম্মাননা ও অংশগ্রহণের সুযোগ
বিএমইটির মহাপরিচালক জানিয়েছেন, প্রবাসী কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে প্রবাসীদের বিএমইটি অনলাইন পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে নিবন্ধন করতে হবে। আবেদনকারীর পাসপোর্ট, এনআইডি, বৈধ ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রবাসে কর্মসংস্থানের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। অনলাইন আবেদন যাচাইয়ের পর একটি ইউনিক প্রবাসী আইডি নম্বর প্রদান করা হবে, যা দিয়ে কার্ড ইস্যু করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, “এই কার্ডের মাধ্যমে আমরা প্রবাসীদের সঙ্গে সরকারের সংযোগ আরো দৃঢ় করতে চাই। তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, তাই তাদের জন্য একটি পরিচয় ও সুবিধাভিত্তিক কাঠামো তৈরি করা জরুরি।” তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে।
logo-1-1740906910.png)