আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের বিমানবন্দরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হতে হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (HSIA) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
টার্মিনালে প্রবেশের পর প্রথমেই নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের কাউন্টার খুঁজে বের করতে হয়। সেখানে পাসপোর্ট, টিকিট বা ই-টিকিট এবং ভিসা দেখিয়ে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করতে হয়। একই সঙ্গে কার্গোতে পাঠানোর জন্য লাগেজ জমা দিতে হয়। যাত্রীদের হাতে রাখার জন্য সাধারণত সাত কেজি ওজনের একটি ব্যাগ অনুমোদিত থাকে।
চেক-ইন শেষে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ডেস্কে যেতে হয়। এখানে ডিপার্চার কার্ড পূরণ করতে হয়, যা কাউন্টার বা টেবিল থেকে পাওয়া যায়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা পাসপোর্ট, ভিসা, বোর্ডিং পাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করেন। এরপর পাসপোর্টে এক্সিট সিল দেওয়া হয়, যা বিদেশ ভ্রমণের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন।
ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীদের সিকিউরিটি স্ক্যানিং জোনে যেতে হয়। এখানে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে শারীরিক তল্লাশি করা হয়। যাত্রীদের হ্যান্ডব্যাগ ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী যেমন ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংক ইত্যাদি আলাদাভাবে স্ক্যানারে দিতে হয়।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে যাত্রীরা ডিপার্চার লাউঞ্জে প্রবেশ করেন। বোর্ডিং পাসে গেট নম্বর ও বোর্ডিংয়ের সময় উল্লেখ থাকে। নির্ধারিত সময়ে যাত্রীদের গেট দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে বিমানে প্রবেশ করতে হয়।
প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য এসব ধাপ কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। তবে বিমানবন্দরের ডিসপ্লে স্ক্রিন, নির্দেশনা বোর্ড এবং কর্মীদের সহায়তায় সহজেই সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়। যাত্রীদের উচিত নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানো, যাতে কোনো ধাপে বিলম্ব না হয়।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণে চেক-ইন, ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং বোর্ডিং; এই চারটি ধাপ সম্পন্ন করেই যাত্রীরা বিমানে উঠতে পারেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সময়মতো উপস্থিত হয়ে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এতে ভ্রমণ আরো নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।
logo-1-1740906910.png)