Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে দুর্নীতি ও প্রতারণার বিস্তর অভিযোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে দুর্নীতি ও প্রতারণার বিস্তর অভিযোগ

প্রবাসীদের অর্থ দিয়ে গড়ে ওঠা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। ব্যাংকটির মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসীদের কল্যাণে সহজ ঋণ ও সঞ্চয় সুবিধা দেওয়া। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ব্যাংকটি এখন ঋণখেলাপি, প্রতারণা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে গভীর সংকটে। ১৩ জুলাই, ২০২৬ এ প্রকাশিত দৈনিক বণিকবার্তায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব আর্থিক অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে।

তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৬১ শতাংশ খেলাপি। সংসদে গাজীপুর-৪ আসনের এমপি সালাউদ্দিন অভিযোগ করেন, অতীতে তদবির, ঘুষ-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। একই সিন্ডিকেট এখনো ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে সক্রিয়। ফলে ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

রাঙ্গামাটি শাখার ম্যানেজার দর্পণ চাকমার বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। তিনি গ্রাহকদের নামে ভুয়া ঋণ তৈরি করেন এবং কিস্তি জমা দেওয়ার অর্থ সরিয়ে নেন। পরে তিনি গা-ঢাকা দেন। এ ধরনের প্রতারণা শুধু এক শাখায় নয়, বিভিন্ন শাখা ও সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য চালু করা হয়েছিল নানা সঞ্চয় প্রকল্প। যেমন- ‘বঙ্গবন্ধু সেভিংস স্কিম’, ‘বঙ্গবন্ধু এডুকেশন সেভিংস স্কিম’ ও ‘ডাবল বেনিফিট স্কিম’। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পে জমা রাখা অর্থ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা প্রতারিত হয়েছেন এবং তাদের সঞ্চয় নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।

প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ব্যাংকের নিয়োগ ও পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি ব্যাংকের প্রকল্পের নামকরণেও রাজনৈতিক প্রভাব দেখা গেছে। এর ফলে ব্যাংকটি প্রবাসীদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসীদের অর্থ দিয়ে গড়ে উঠলেও তাদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। ঋণ খেলাপি, প্রতারণা, এফডিআরের নামে অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যাংকটি এখন আস্থাহীনতায় ভুগছে। ব্যাংকটির অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে পুরো আর্থিক খাতে একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যার আওতায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকের অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Logo