রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সম্পদ খতিয়ে দেখছে দুদক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দুর্নীতির অভিযোগে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত এই দুর্নীতির মামলাগুলোতে অভিযুক্ত এজেন্সি মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পদও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদক জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। অভিযুক্তদের মধ্যে ২১৩ জনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ জন ইতোমধ্যে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তাকে, তার স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের নামে অর্জিত সব সম্পদের বিবরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে দুদক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা না দিলে বা মিথ্যা তথ্য দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, যারা সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকিদের যাচাই চলছে। যদি কারো দাখিলকৃত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়, তবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করা হবে। প্রয়োজনে আদালতে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ ক্রোকের আবেদনও করা হবে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি বেনজীর আহমদসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা পরস্পরের যোগসাজশে সরকার নির্ধারিত ফি’র কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করেছেন। কর্মীপ্রতি ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।
এই অর্থ সাব-এজেন্ট, বিমান টিকিট ও অন্যান্য মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)