মালয়েশিয়া ফ্লাইটে বোর্ডিং পাস নেওয়ার পর নিখোঁজ ৬১ যাত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩১
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মালয়েশাগামী একটি ফ্লাইটে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। ৪ জুলাই রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে ৭৬ জন যাত্রী শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারেননি। এর মধ্যে ৬১ জন বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেও গেটে হাজির হননি।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ২৮৮ জন যাত্রী ওই ফ্লাইটের টিকিট কিনেছিলেন। এর মধ্যে ১০ জনকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বিমানে ওঠার পর নামিয়ে দেন। আরো পাঁচজনকে গেটেই আটকানো হয়। এরপর ৬১ জন যাত্রী আর গেটে আসেননি। ফলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফ্লাইটটি ২১২ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করছে, কোনো সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এত যাত্রী একসঙ্গে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যারা ধরা পড়েছেন, তারা সবাই কাজের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রী প্রথমে লাগেজ চেক-ইন করে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেন। এরপর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পাসপোর্টে সিল মেরে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তারপর গেটে গিয়ে বিমানে ওঠেন। কিন্তু শনিবারের ঘটনায় দেখা গেছে, অনেকেই বোর্ডিং পাস নেওয়ার পর আর গেটে যাননি।
স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও অনেককে পৌঁছানোর পর ফেরত পাঠানো হয়। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হয়।
তিনি আরো বলেন, অনেক সময় দেখা যায় যাত্রী পর্যটন ভিসায় যাচ্ছেন, কিন্তু তাদের আর্থসামাজিক অবস্থা বিদেশ ভ্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব কারণে সন্দেহ তৈরি হয়। ফলে অনেককে আগেই আটকানো হয়।
৪ জুলাই এর ঘটনায় আটক যাত্রীদের ভিসা জাল ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাদের ভ্রমণ উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে জানা যাবে, কেন এতগুলো যাত্রী একসঙ্গে গেটে হাজির হননি এবং এর পেছনে কোনো মানব পাচার সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল কিনা।
logo-1-1740906910.png)