বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১২
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন সর্বমোট ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। এ প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করেছে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ করেছে।
জুন মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২.৮১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ৪৪১.৬৮ মিলিয়ন ডলার। সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক পেয়েছে ৩২৫.৮০ মিলিয়ন ডলার, রূপালী ব্যাংক ৭৪.৩১ মিলিয়ন ডলার এবং সোনালী ব্যাংক ৫৬.৩৫ মিলিয়ন ডলার। জনতা ব্যাংক তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ৫৮.৪৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সর্বাধিক রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে, ৩৪৯.২৯ মিলিয়ন ডলার। ব্র্যাক ব্যাংক পেয়েছে ২৭৩.১৫ মিলিয়ন ডলার এবং ট্রাস্ট ব্যাংক ২৬২.১৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাসওয়ারি রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বাধিক। ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
গত পাঁচ বছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছর রেমিট্যান্সে সবচেয়ে সফল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স ছিল ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলের সহজলভ্যতা এবং সরকারের প্রণোদনা নীতির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে এ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংক গ্রামীণ প্রবাসীদের আস্থা অর্জন করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)