নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় আলাদা বাজেট ও প্রশিক্ষণের দাবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:২৮
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি নারী অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে পৃথক বরাদ্দ এবং গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী শ্রম কূটনীতি গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে নারী শ্রমিকদের ভাষা শিক্ষা, আত্মরক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি বিষয়ে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
২৮ জুন রাজধানীর বনশ্রীস্থ নারী উন্নয়ন শক্তি (এনইউএস) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এসব দাবি জানান। ‘মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সমস্যা, সুরক্ষা ও টেকসই সমাধান’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি) এবং নারী উন্নয়ন শক্তি (এনইউএস)। সহযোগিতায় ছিল ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট এবং গ্লোবাল ওয়ার্কফোর্স সার্ভিসেস।
বাংলাদেশ অভিবাসী অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, “নারী শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ও নারীবান্ধব বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে এবং দ্রুত কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করতে গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা জোরদার করতে হবে।”
নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে নারী শ্রমিকদের শুধু কাজের প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না। তাদের ভাষা শিক্ষা, শ্রম আইন, আত্মরক্ষার কৌশল, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারীদের দ্রুত উদ্ধার এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসনে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি নুসরাত সুলতানা আফরোজ বলেন, নিরাপদ অভিবাসন কেবল কর্মসংস্থানের বিষয় নয়, এটি নারীর মর্যাদা ও মানবাধিকারের সঙ্গে জড়িত। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অভিবাসী নারীদের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করতে হবে।
কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন জাপানের স্বেচ্ছাসেবী মারিকো আদাচি, মোহাম্মদ ইয়াসিন পাটোয়ারী, শিলিডের নির্বাহী সদস্য সালিনা আক্তার এবং বাংলাদেশ গৃহকর্মী নিয়োগকর্তা সমিতির প্রতিনিধি রিয়া আক্তার।
কর্মশালা থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি দূতাবাসে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সহায়তা কেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, অবৈধ দালাল ও মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ। বক্তারা এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন।
logo-1-1740906910.png)