মানব পাচার রোধ ও বিদেশফেরতদের কল্যাণে ‘ব্রেভ’ নেটওয়ার্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪২
অনিরাপদ অভিবাসন, মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক— ‘ব্রেভ’ (BRAVE - Bangladeshi Returnee Migrants and Anti-Trafficking Voices for Empowering Survivors)। সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে আগত ৫০ জন মানব পাচার সারভাইভার ও বিদেশফেরত অভিবাসী এই নেটওয়ার্কের উদ্বোধনে অংশ নেন।
বিদেশফেরত অভিবাসী এবং পাচারের শিকার অর্ধশত মানুষ মিলে এই নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। মালয়েশিয়ায় পাচারের শিকার আল আমিন নয়ন উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। দুবাইতে উটের জকি হিসেবে পাচারের শিকার দেবানন্দ মন্ডল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের বাস্তবায়িত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপলস স্মাগলিং’ প্রকল্প এই আয়োজনকে সহায়তা করেছে। অনুষ্ঠানে আল আমিন নয়ন বলেন, পাচার থেকে বেঁচে আসা মানুষরা যখন নিজেরাই সচেতনতা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসে, তখন তার প্রভাব আরো কার্যকর হয়। ব্রেভ নেটওয়ার্ক সারভাইভারদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বাড়াবে, যা মানব পাচার রোধে বড় ভূমিকা রাখবে।
যশোরের বিদেশফেরত অভিবাসী শাহনাজ পারভীন বলেন, বিদেশ থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরলে সমাজে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়। ব্রেভ নেটওয়ার্ক বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে সমাজের মনোভাব বদলাতে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, দালালরা ইউরোপ, মালয়েশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ার প্রলোভন দেখালেও বাস্তবে সমুদ্রপথে অধিকাংশের পরিণতি হয় মৃত্যু, কারাবাস বা নির্যাতন। মানব পাচার রুখতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ব্রেভ নেটওয়ার্ক বিদেশফেরত অভিবাসী ও সারভাইভারদের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নবগঠিত ব্রেভ নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ, নিয়মিত ও দায়িত্বশীল অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা এবং বিদেশগমনেচ্ছুদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি সারভাইভারদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করা, নেতৃত্ব ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং কমিউনিটি ভিত্তিক উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও এই সংগঠনের উদ্দেশ্য।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সুইজারল্যান্ডে অবস্থানকারী বাংলাদেশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনি দেশে বিদেশ ফেরতদেরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
logo-1-1740906910.png)