প্রথম বিদেশ সফরকে দেশের অর্জন বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৫০
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরকে দেশের মানুষের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে আমি দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি এবং সেই স্বার্থরক্ষার চেষ্টা করেছি। এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। এ সফরে যদি ভালো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে সেটি বাংলাদেশের অর্জন।”
২৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৬তম কার্যদিবসে মালয়েশিয়া ও চীন সফর ঘিরে উত্থাপিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের জন্য অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি- ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। এই সফরও সেই দর্শনের প্রতিফলন।” বিরোধীদলীয় নেতাকেও তিনি ধন্যবাদ জানান, যিনি দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।
ধন্যবাদ প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উত্থাপন করেন। আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সফরটিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সফরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।”
দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। শনিবার দুপুরে তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান মাজার কমপ্লেক্সে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি ফাতিহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর শুরু হয় ২১ জুন মালয়েশিয়ায়। এরপর তিনি চীনের দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেন। পরে বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং বিনিয়োগ ও গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে আরেকটি চুক্তি হয়। সফরের শেষ দিনে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
logo-1-1740906910.png)