বাংলাদেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে। তবে এই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করলে নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। ব্যাংকিং খাতের অনিশ্চয়তা, শেয়ারবাজারের ওঠানামা এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অনেকেই ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ খাত হলো সরকারি সঞ্চয়পত্র।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে মূলধন হারানোর কোনো ঝুঁকি নেই। কারণ এটি সরাসরি সরকারের গ্যারান্টিতে পরিচালিত হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী নির্ধারিত হারে লাভ পান। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে ১১ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়, যা ব্যাংকের আমানতের সুদের চেয়ে বেশি।
সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যেমন- পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশন সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এসব খাতে বিনিয়োগ করলে প্রবাসীরা শুধু নিরাপদ আয়ই পান না, বরং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও শেয়ারবাজারের অনিশ্চয়তার কারণে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ অনেক সময় ঝুঁকিতে পড়ে। কিন্তু সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে সেই অর্থ নিরাপদ থাকে এবং নির্দিষ্ট হারে লাভ পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদে পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে চান, তাদের জন্য সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে কার্যকর।
প্রবাসীদের জন্য আরেকটি সুবিধা হলো, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে হলে কোনো জটিল প্রক্রিয়া নেই। অনুমোদিত ব্যাংক ও ডাকঘরের মাধ্যমে সহজেই সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। এছাড়া ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন অনেক জায়গায় অনলাইনে আবেদন করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ বাড়ছে। কারণ তারা জানেন, ব্যাংক বা শেয়ারবাজারে অর্থ রাখলে ঝুঁকি থাকে, কিন্তু সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে সরকারিভাবে গ্যারান্টি দেওয়া হয়।
logo-1-1740906910.png)