বাংলাদেশে আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের অংশগ্রহণে এ খাত আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। প্রবাসীরা দেশে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি কিনে শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করছেন না, বরং দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখছেন।
রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ এখন আবাসন খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জে প্রবাসীরা ফ্ল্যাট ও প্লট কিনতে আগ্রহী। এতে আবাসন খাতের চাহিদা বাড়ছে এবং নির্মাণ শিল্পে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রবাসীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা করেন। তাই তারা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবাসন খাতকে বেছে নিচ্ছেন। ব্যাংক বা শেয়ারবাজারে ঝুঁকি থাকলেও আবাসন খাতে বিনিয়োগে সম্পদের নিরাপত্তা থাকে এবং ভবিষ্যতে মূল্যও বাড়ে।
আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রবাসীদের অংশগ্রহণে বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে। তারা নিয়মিত অর্থ পাঠিয়ে ফ্ল্যাট বা প্লটের কিস্তি পরিশোধ করেন, ফলে প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ হয়। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বিনিয়োগে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
সরকারও প্রবাসীদের আবাসন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। বিভিন্ন আবাসন মেলায় প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় ও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে বুকিং ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকায় প্রবাসীরা সহজেই বিনিয়োগ করতে পারছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আবাসন খাতে প্রবাসীদের বিনিয়োগ শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ সৃষ্টিই নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। নির্মাণ শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়ছে, সিমেন্ট, ইস্পাত ও অন্যান্য শিল্পে চাহিদা বাড়ছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
logo-1-1740906910.png)