বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘন ঘন জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বাড়ায় হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছেন। কিন্তু শহরে এসে তাদের জীবন আরো কঠিন হয়ে উঠছে। অরক্ষিত বাসস্থান, অস্থায়ী চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং সামাজিক বঞ্চনা; সব মিলিয়ে জলবায়ু অভিবাসীরা প্রতিদিন নতুন সংগ্রামের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সম্প্রতি কারিতাস বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা বলেন, জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য কার্যকর নীতি প্রণয়ন জরুরি। তারা বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরো গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি এখন বাংলাদেশের অন্যতম বড় সামাজিক ও উন্নয়নগত চ্যালেঞ্জ। অথচ তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতি কাঠামো ও সমন্বিত উদ্যোগ এখনো অপর্যাপ্ত।
প্রখ্যাত সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, “কেউ নিজের ঘরবাড়ি, স্মৃতি ছেড়ে শহরে আসে না। বেঁচে থাকার তাগিদেই তাদের এই নির্মম সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” তিনি উল্লেখ করেন, শহরে আসার পর জলবায়ু অভিবাসীরা জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যান। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে গ্রামের ঠিকানা থাকায় জরুরি সেবা, রেশন বা আর্থিক সহায়তা পেতে নানা জটিলতা ও বৈষম্যের শিকার হন।
কারিতাস বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার ত্রিপুরা বলেন, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো উন্নত বিশ্বের কার্বন নিঃসরণের মূল্য দিচ্ছে। তাই জলবায়ু অভিবাসীদের সংকটকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু ন্যায়ের অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে তাদের নিরাপদ আবাসন, স্থায়ী কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিপুল জনগোষ্ঠী শহরে আসছে। কিন্তু নীতি ও কাঠামোগত সহায়তার অভাবে তারা নতুন করে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু অভিবাসীদের সংকট সমাধান শুধু বাংলাদেশের দায়িত্ব নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু ন্যায়ের প্রশ্ন।
logo-1-1740906910.png)